আইএস ঠেকাতে রণকৌশলে পরিবর্তন আনছে যুক্তরাষ্ট্র

S M Ashraful Azom
সিরিয়া ও ইরাকে আইএসের বিরুদ্ধে স্থল হামলাসহ রণকৌশলে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাস্টন কার্টার বলেছেন, লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আরো বেশি বিমান হামলা চালানো হবে।
 
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কার্টারের বক্তব্যে আইএসের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর হামলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসছে না—সে কথাটাই ফুটে উঠেছে। এদিকে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ অবসানে আলোচনায় প্রথমবারের মত ইরানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন বলেছে, ইরাক ও সিরিয়ায় 'ইসলামি খেলাফত' উৎখাতের লক্ষ্যে সেখানে আরো বিমান হামলা এমনকি জিহাদিদের বিরুদ্ধে বিশেষ বাহিনীর সরাসরি স্থল অভিযান চালানো হতে পারে।
 
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, সিরিয়ায় রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহে ভিয়েনায় প্রথম দফা আলোচনায় দামেস্কের প্রধান মিত্র ইরানকে আমন্ত্রণ করা হচ্ছে। তবে এই আলোচনায় ইরানের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবেন কি-না তা নিশ্চিত নন বলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জন কিরবি জানিয়েছেন।
 
সিরিয়ায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন ঐকমত্যের সরকার গঠন এবং প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পদত্যাগের পথ প্রশস্ত করার মাধ্যমে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ অবসানের উপায় নিয়ে শুক্রবার ভিয়েনায় আলোচনা হবে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, আরব ও ইউরোপীয় দেশগুলোর শীর্ষ কূটনীতিকরা এই আলোচনায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
 
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাস্টন কার্টার বলেন, আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সুযোগ থাকলে মার্কিন বাহিনী স্থলে সরাসরি অভিযান চালানো থেকে বিরত থাকবে না। সিরিয়ার পশ্চিমা সমর্থিত বিদ্রোহী দল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় আরব দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ইরানের ভূমিকার বিরোধিতা করে আসছে।
 
ইরান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সবচেয়ে কাছের মিত্র। আসাদ সরকারের সহায়তায় ইরান সামরিক পরামর্শ ও তেল সরবরাহের পাশাপাশি লাখ লাখ ডলারও ব্যয় করে আসছে বলে ধারণা করা হয়। এমনকি আসাদ বাহিনীর সহায়তায় লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের পাঠানোর সিদ্ধান্তের পেছনেও ইরানের হাত রয়েছে বলে মনে করা হয়।
 
সিরিয়ায় ২০১১ সালের মার্চে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে তা রূপ নেয় গৃহযুদ্ধে। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা সংঘাতে এ পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গৃহহারা হয়েছেন ১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ অন্য দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের সুযোগে দেশটিতে শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছে আইএস।
 
সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে আসাদ সরকারকে সমর্থন জানিয়ে আসছে ইরান, রাশিয়া ও লেবাননের হিজবুল্লাহ। অন্যদিকে তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সমর্থন জানাচ্ছে আসাদ-বিরোধীদের। সূত্র: বিবিসি,এএফপি
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top