“আমার সোনার টুকরাকে ফিরিয়ে দেও। ওই ডাকাতকে মাইরা আমার চাঁদের টুকরার প্রতিশোধ নাও। যেই সন্তানের লাইগা জীবন শেষ করলাম, সেই সন্তানরে মিথ্যা অপবাদ দিয়া গুলি করল কেন?” বলতে বলতেই মূর্ছা যান রিয়াদের মা রোকেয়া বেগম। গতকাল দুপুরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়াইন গ্রামের শাহেদ বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল সন্তানহারা মায়ের এই আহাজারি। তার বুকফাটা কান্না দেখে প্রতিবেশীরাও ধরে রাখতে পারেননি চোখের জল।
১৭ বছর আগেই বাবাকে হারান রিয়াদ ও তার বড় ভাই রিপন। স্বামী মফিজুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর থেকে রোকেয়া বেগম দীর্ঘ ১৭ বছর পরের বাসায় কাজ করে বহুকষ্টে ছেলেদের বড় করে তোলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিয়াদের মা রোকেয়া বেগম জানান, সোমবার সন্ধ্যায় রিয়াদের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন রিয়াদকে তিনি জিজ্ঞাসা করেন- “বাবা, খাওয়া-দাওয়া করছোনি। বাবায় কইছিল- না, মা। এখনো ডিউটি চলছে। পরে কথা বলবো বলছিল, কিন্তু আর হয়নাই কথা বলা।”
আর কোনদিনই রিয়াদের সঙ্গে কথা বলা হবে না তার মায়ের। টাকা ও মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে গত বুধবার রাজধানীর মতিঝিলের স্বামীবাগে নির্মাণাধীন একটি বাসায় হোটেলকর্মী রিয়াদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। রিয়াদকে হত্যার অভিযোগে মতিঝিলের ঘরোয়া হোটেল এ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক আরিফুল ইসলাম সোহেলকে আসামি করে ওয়ারী থানায় বুধবার মামলা দায়ের করেছেন রিয়াদের বড় ভাই মোহাম্মদ রিপন। রিয়াদের মায়ের এখন একটাই দাবি- “আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।”

