জি এম ক্যাপ্টেন, কুড়িগ্রাম ঃ কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজ মাঠের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খালেদা জিয়া আন্দোলনের নামে ২ থেকে আড়াই হাজার বাস পুড়িয়েছে। দেড়শো মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। এরা মানুষ নয় জানোয়ার। বিএনপি-জামায়াত জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে। এখন তিনি বিদেশের বসে বিদেশীদের হত্যা করে দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট করছে।
তিনি আরো বলেন, কুড়িগ্রাম এক সময় মঙ্গা এলাকা বলে চিহ্নিত ছিল। ২১ বছর পর আওয়ামীলীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে মঙ্গা শব্দটি মুছে দিয়েছে। কুড়িগ্রামে কর্মসংস'ান সৃষ্টির লক্ষে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে। প্রত্যেক উপজেলায় একটি কলেজ ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারী করন করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম গড়ে তোলার ঘোষনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়াও সরকারী ও বে-সরকারী উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস'া নেয়া হবে।
তিনি আজ বিকেল সাড়ে ৩ টায় কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি কুড়িগ্রাম বীজ হিমাগার, চীপ জুডিশিয়াল ভবন, টেকনিকেল ট্রেনিং সেন্টারসহ ১৬ টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১৪ টি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স'াপন করেন।
জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মন্ডলের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক ডাঃ দীপু মনি, ডিপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া,স'ানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ জাফর আলী প্রমুখ।
এর আগে কুড়িগ্রামের দসিয়ার ছড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছিটমহলবাসীরা আর পরবাসী নয়। অধুনা বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে শিক্ষা-স্বাস'্যসহ সকল প্রকার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তারা বাংলাদেশের অন্য নাগরিকের মত সমান অধিকার পাবে।
তিনি আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিটবাসীর মুক্তির জন্য কাজ শুরু করেছিলেন, তিনি বেঁচে থাকলে ছিট বিনিময় আরও আগে হত। চুক্তি বাস্তবায়নে অন্য সরকারগুলো কোন কাজ করেনি। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষতায় এসে প্রটোকল চুক্তি, স'লসীমানা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর পর সীমানা নির্ধারন লোক গননাসহ নানা পর্যায় অতিক্রম করে মোদি সরকার ক্ষমতায় এলে ভারতের রাজ্য সভায় উথ্যাপন করেন। ভারতের সকল রাজ্য সরকার গুলোর সহযোগীতায় ছিটমহলবাসীদের কাংখিত স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়। সকল ছিটমহলের মানুষ জন এখন এক গুচ্ছ প্রস্ফুটিত ফুল।
তিনি ছিটমহল বিনিময়ের সফলতায় ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারসহ মোদি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী আজ ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ার ছড়ায় পৌছে ৬৩ কিলোমিটার বিদ্যুত লাইনের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট-নীলফামারী ও ঠাকুরগাও জেলার ১০টি ছিটমহলের ২হাজার ৫শ ৬১ পরিবারে বিদ্যুত সংযোগের উদ্বোধন করেন।
পরে তিনি ছিটবাসীদের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি বলেন, ছিটবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের সকল বিভাগকে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই তারা কাজ শুরু করেছেন।
এছাড়াও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় চীপ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিন, ছিটবাসীর পক্ষে হৈমন্তী শুকলা প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে উপসি'ত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডিপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বী, স'ানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক পররাষ্টমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি।
মতবিনিময়ের আগে তিনি ৫ জন বিলুপ্ত ছিটবাসীর হাতে সোলার প্যানেল তুলে দেন।
বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রামে ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৫টির ভিত্তি প্রস্তর স'াপন করেন। পরে কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত এক জনসভায় ভাষন দেন।
