সেবা ডেস্ক : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক ১৭ জনকে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক ওই ১৭ জনকে শনিবার ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে (সিএমএম) হাজির করে দশদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম। শুনানি শেষে বিচারক এসএম মাসুদ জাম্মান প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আটকেরা হলেন- মো. জোবায়ের হোসেন, মো. সাজু আহমেদ, মো. মাহমুদুল হাসান, সামিউল ইসলাম, ছাব্বির হোসেন, মো. হাসানুর রশিদ, মো. মেহেদী হাসান, মো. হৃদয় ইসলাম, মো. রায়হান রাব্বি, মো. আকাশ আহম্মেদ, মো. তানভীর, মো. সবুজ খান, মো. সোহাগ, মেহেদী হাসান, মো. আকিব বিন বারি, মো. নাহিদুল হক ও মো. মানিক মিয়া। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে রাজধানীর তেজগাঁও ও ধোলাইখাল এলাকা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসচক্রের ১৭ সদস্যকে আটক করে ডিএমপি’র গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ (ডিবি)। রাজধানীর মিন্টো রোডে শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য (উত্তর) বিভাগের ডিসি শেখ নাজমুল আলম জানান, প্রশ্নপত্র বিক্রির পর টাকা যাতে হাতছাড়া না হয় সে জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে তাদের মূল সনদপত্র জমা নেওয়া হতো । তিনি জানান, এমনকি পরীক্ষার্থীরা যদি পাঁচজনকে এনে দেয় তাহলে যে এনে দেবে সে প্রশ্নপত্র বিনামূল্যে পাবে। এ ভাবেই একটি চক্র বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র বিক্রি করে আসছিল। শেখ নাজমুল বলেন, ‘আটকদের কাছ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মূল সদনপত্র, ট্রান্সক্রিপ্ট, মোবাইল ফোন, হোয়াটস আপে পাঠানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, ফেসবুকে যোগাযোগ ও এ্যাড দেওয়ার কথাবার্তার ডাউনলোড করা কপি উদ্ধার করা হয়। তারা প্রথমে ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে মূল সনদপত্র জমা রেখে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করত। প্রশ্নপত্রের জন্য তারা ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা নিত। পরীক্ষার্থীরা যতদিন প্রশ্নপত্রের এ টাকা না দিত ততদিন পর্যন্ত তাদের সনদপত্র জমা রাখা হত।’ এ ব্যাপারে পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ অপরাধ আইন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে তেজগাঁও মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ডিবির উপ-কমিশনার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রশ্নফাঁস বন্ধ করতে কমিটি গঠন করে। তাদের সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশকে জানায়। পরে গোয়েন্দা পুলিশ ঢাবির জিয়া হল থেকে জোবায়েরকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যমতে বাকিদের আটক করে। আটকদের আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
