বেতনকাঠামো সংশোধনের দাবিতে শিক্ষকদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন করা উচিৎ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, 'যতদিন এই আন্দোলন শেষ হচ্ছে না, ততদিন তাদের বর্ধিত বেতন নেয়াও উচিৎ হবে না।' এবিষয়ে তার হস্তক্ষেপ করার মতো কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর ও সরকারি কর্মকর্তাদের ৫৯ বছর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যদি সমান করতে হয়, তাহলে তো সব কিছুই সমান সমান হতে হবে। চাকরির বয়স তো কমাতে হবে।'
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পর রবিবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'উনাদের কোনো কথা নেই, বার্তা নেই, আমাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেবে, কেন বন্ধ করে দেবে? শিক্ষকরা আন্দোলন করতে যাবে কিসের জন্য? আর যদি করতে হয়, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করার কোনো রাইট তো তাদের নেই।' সচিবদের সমান সুযোগ সুবিধা দাবি করার আগে শিক্ষকরা সরকারের কাছ থেকে কি কি সুবিধা পান তা হিসেব করে দেখতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক মাকসুদ কামাল ইত্তেফাককে বলেন, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো ও স্বতন্ত্র পদমর্যাদা নির্ধারণ করাই আমাদের প্রধান দাবি। বেতন বৃদ্ধি আসল কথা নয়, প্রশ্নটি মর্যাদার। তাই বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনের জন্য শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো নির্ধারণ করাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান।
তিনি আরো বলেন, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকাসহ এশিয়ার অনেক দেশে শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো রয়েছে। বাংলাদেশেও শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রয়োজন।

