সেবা ডেস্ক: শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখায়
ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কড়া
সমালোচনা করেছেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র
এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে বুধবার
বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রলীগ আয়োজিত সমাবেশে তিনি প্রশাসনের সার্বিক
কর্মকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রো-ভিসিকে
উদ্দেশ্য করে খায়রুজ্জামান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ করেন বলেই ভিসি ও প্রো-ভিসি
হয়েছেন। এটা যোগ্যতায় নয়, বরং সরকার চেয়েছে বলেই হয়েছেন।’
‘কিন্তু এখন সেটা ভুলে গেছেন। দলের
নেতাকর্মীদের ন্যূনতম প্রত্যাশাকেও আর আমলে নিচ্ছেন না। নিয়োগ দিচ্ছেন
বিপরীত আর বিতর্কিত ঘরানার লোকজনকে’ অভিযোগ করেন তিনি।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান
আরও বলেন, ‘এত শান্তিতে ক্যাম্পাস চালাচ্ছেন। ভাবছেন- আপনাদের দক্ষতা? না,
আমরা শান্ত আছি বলেই আপনারা সুন্দরভাবে ক্যাম্পাস চালাতে পারছেন। মহানগর
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যদি চায় আপনাদের গদি উল্টাতে ৪৮ ঘণ্টা সময়ও লাগবে
না।’
তিনি দাবি করে বলেন, ‘ভিসি ও প্রো-ভিসি
হওয়ার আগে আমাদের কথা দিয়েছিলেন, লিটন ভাই শুধু একবার হই। আপনার লিস্ট ধরে
ধরে আমরা চাকরি দেবো। আপনি যেভাবে বলবেন সেইভাবেই দেবো।’
‘আমরা লিস্ট দিয়েছি বছর দেড়-দুই বছর আগে।
সেই লিস্ট কোথায় গেল? কিন্তু বিতর্কিত ঘরনা থেকে আসা লোকজনকে শিক্ষক নিয়োগ
দিচ্ছেন। নিজেদের আত্মীয়-স্বজনকেও নিয়োগ দেয়া আপনাদের অব্যাহত আছে’ যোগ
করেন এ আওয়ামী লীগ নেতা।
তিনি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রশাসন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রশাসন, তাদের সেইভাবেই কাজ করা উচিত ছিল।
বিএনপি চারদলীয় জোট যদি একবারে ৫৪৪ জনকে নিয়োগ দিতে পারে, আপনারা কি ১৪৪-ও
দিতে পারেন না? এতো স্বচ্ছ হয়ে গেলেন?’
‘আসলেই কি আপনারা স্বচ্ছ? আমরা যখন কারো
সুপারিশ করি তখন আপনারা নিয়মের কথা শোনান। কিন্তু যখন অবৈধভাবে অন্যদের
নিয়োগ দেন, তখন নিয়ম আর থাকে না’ বলেন খায়রুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘যাদের পিঠে পা দিয়ে সিঁড়ি
বানিয়ে আজ আপনারা ভিসি ও প্রো-ভিসি হয়েছেন, দয়া করে সেইটুকু স্মরণ করবেন।
তা না হলে যখন সবকিছুই হারিয়ে যাবে, তখন রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে
দাঁড়াবে আপনাদের।’
