চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হলের ছাত্রদের গতকাল সোমবার বিকাল ৫টার মধ্যে এবং মেয়েদের আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার মধ্যে হল খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে চুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম ইত্তেফাককে জানান।
জানা যায়, গত শনিবার রাত থেকেই চুয়েট ছাত্রলীগের নাহিদ পারভেজ লাফছু গ্রুপের সাথে শাহনেয়াজ তানভীর গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও মারধরের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে। গতকাল দুই গ্রুপ ক্যাম্পাসের গোলচত্ত্বরে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে দেড়টার দিকে শাহনেয়াজ তানভীর গ্রুপ লাফছু গ্রুপের উপর হামলা চালায়। এসময় উপাচার্য ও পুলিশের সামনেই বেশ কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। এতে লাফছু, নিশাত, রিয়াজউদ্দিন তানিম, রাফিদসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। আহতদেরকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। রাবার বুলেটের আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে প্রশাসনের এক জরুরি বৈঠকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় চুয়েট।
চবি সংবাদদাতা জানান, ভর্তি পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয় বেশ কয়েকজন পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েকশ’ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছোড়ে। এ ঘটনায় বিকালে প্রায় ৩০ জনকে আটক করা হয়।
বিবদমান দু’গ্রুপ নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এবং নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন বলেন, এটি একটি পূর্ব পরিকল্পিত ঘটনা। সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা কোন কারণ ছাড়াই আমাদের উপর, আমাদের নারী কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছ।
চবি ছাত্রলীগ সভাপতি আলমগীর টিপু বলেন, সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীরা আমাদের কর্মীদের সঙ্গে ইচ্ছে করে ঝামেলায় লিপ্ত হয়। ছাত্রলীগ নামধারী কিছু শিবিরের কর্মী ভর্তি পরীক্ষা বানচালের চেষ্টা করছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। হাটহাজারী মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) শহিদুল্লাহ, হাটহাজারী থানার ওসি মো. ইসমাইল, তার দেহরক্ষী এবং এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

