নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সকল মানুষের সামাজিক দায়িত্ব

S M Ashraful Azom
যে সমাজ নারীকে সম্মান দেয় না সে সমাজ বর্বর সমাজ। নারী নির্যাতন প্রতিরোধের আন্দোলন কেবল নারীসমাজের নয়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমাজের শিক্ষিত বিবেকবান সকল মানুষের সামাজিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকগন। তারা বলেন, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তরুণ ও পুরুষসমাজকে এগিয়ে আসা সবচাইতে জরুরি। সমাজে নারী প্রত্যয়টিকে আলাদা করলে নারী কখনই তার যথার্ত মর্যাদা পাবে না।
রবিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০১৫ উপলক্ষে পুরুষ সংহতি সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তারা। বাংলাদেশ মাহিলা পরিষদ এর আয়োজন করে। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন সংগঠকের সভাপতি আয়শা খানম। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, মৃণাল সরকার,  কলামিষ্ট মুহম্মদ হিলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল ফরিদুর রহমান, চিকিৎসক ডা. এম. এইচ. চৌধুুরী লেলিন, আবৃতিকার ভাস্মর বন্দোপাধ্যায়, সাংবাদিক বাসুদেব ধর, আইটি উদ্যোক্তা মাহবুব জামান, সাংবাদিক প্রণব সাহা, আইনজীবী এস.এম.এ সবুর, ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা, ব্যবসায়ী আরাফাত আহমেদ রাজীব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হোলাল হোসেন ঢালী, উন্নয়নকর্মী চিররঞ্জন সরকার, উন্নয়নকর্মী তারিক হোসেন মিঠুল, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের সভাপতি লিটন নন্দী।
আয়শা খানম বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে ৬৪ টি জেলায় কার্যক্রম চলছে। যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। নারীরা আজ সর্বক্ষেত্রে অবদান রাখছে কিন্তু ক্রমাগত নানা ধরণের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যা আমাদের ৪৫ বছরের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। নারীর বিষয়ে সমাজের পুরুষদের বিশেষ করে তরুণ সমাজের যে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানসিকতা সেখান থেকে আধুনিক যুক্তিযুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের জন্যে সচেতনতার প্রয়োজন। নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা বন্ধ না হলে সমাজ ও রাষ্ট্র এগিয়ে যেতে পারবে না।
মালেকা বানু নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পুরুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং সকল আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
রামেন্দু মজুমদার বলেন, আমাদের পাশের কোন নারী নির্যাতিত হলে আমরা প্রতিবাদ করি না। মনে করি এটা তাদের নিজস্ব বিষয়। যা ঐ নারী নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তিনি প্রতিবাদ হীনতার স্বংস্কৃতি থেকে বেড় হয়ে আসার আহবান করেন।
মফিদুল হক নারীকেও নারীর অধিকার রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যৌতুক, পারিবারিক সহিংসতা ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, প্রশাসনকে আরো সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
সমাবেশে বক্তারা গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন নির্মাতাদের জেন্ডার সংবেদনশীল হবার আহ্বান জানান। তারা বলেন,পাঠ্যপুস্তকেও জেন্ডার সংবেদনশীলতার বিষয়সমূহ অন্তর্ভূক্ত করা এবং পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ যা নারী নির্যাতনের সংস্কৃতিকে সমর্থন করে তা প্রতিরোধ ও নিরোধের লক্ষ্যে জাতীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সংহতি আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top