সেবা ডেস্ক: চার দিন আগে
চিকিৎসক বলেছিলেন,
নাসিমার বেঁচে
থাকার সম্ভাবনা
রয়েছে মাত্র
১ শতাংশ।
গতকাল শুক্রবার
সকালে সেই
সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেল। সকাল
ছয়টার দিকে
নাসিমা রাজশাহী
মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায়
মারা গেছেন।
যৌতুকের জন্য স্ত্রীর
গায়ে কেরোসিন
ঢেলে আগুন
দেওয়ার অভিযোগে
তাঁর স্বামীর
বিরুদ্ধে নওগাঁ
সদর থানায়
মামলা হয়েছে।
কিন্তু গতকাল
শুক্রবার পর্যন্ত
তিনি গ্রেপ্তার
হননি। নাসিমার
স্বামীর নাম
রুবেল হোসেন
(৩০)।
তাঁর বাড়ি
বগুড়ার আদমদীঘি
উপজেলার কুণ্ডুগ্রামে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা
মঞ্জুরুল ভূঁইয়া
বলেন, নাসিমার
মৃত্যুকালীন জবানবন্দি তিনি রেকর্ড করেছেন।
এ ছাড়া
তদন্তে প্রমাণিত
হয়েছে যে
তাঁর স্বামীই
নাসিমার গায়ে
কেরোসিন ঢেলে
আগুন লাগিয়েছেন।
তাঁর ভাড়া
বাড়ি এখন
তালাবদ্ধ। গ্রামের বাড়িতেও তাঁকে ধরার
জন্য অভিযান
চালানো হয়েছে।
তিনি পলাতক
রয়েছেন। এখন
অন্যভাবে তাঁকে
গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নাসিমা আক্তারের ডাক
নাম নাইস
(২৩)।
হাসপাতালের খাতায় সেই নামই লেখা
ছিল। হাসপাতালের
বার্ন ইউনিটের
১০ নম্বর
শয্যায় তিনি
চিকিৎসাধীন ছিলেন। আগুনে তাঁর শরীরের
৮২ শতাংশ
পুড়ে যায়।
নাসিমার বাবার
নাম আবদুল
গাফফার। বাড়ি
বগুড়ার আদমদীঘি
উপজেলার গাদোঘাট
গ্রামে। স্বামীর
বাড়ি থেকে
তাঁর বাবার
বাড়ির দূরত্ব
ছিল প্রায়
আড়াই কিলোমিটার।
গতকাল দুপুরে
ময়নাতদন্ত শেষে নাসিমার লাশ তাঁর
গ্রামের বাড়িতে
নিয়ে যাওয়া
হয়।
গতকাল দুপুরে হাসপাতালের
মর্গের সামনে
নাসিমার বাবা
আবদুল গাফফারের
সঙ্গে কথা
হয়। তিনি
বলেন, নাসিমা
তাঁর একমাত্র
সন্তান। সপ্তম
শ্রেণিতে পড়ার
সময় মেয়ের
বিয়ে দিয়েছিলেন।
জামাই হাফেজিয়া
মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতা ছেড়ে
দিয়ে তিনি
মসজিদের ইমামতি
শুরু করেন।
চার-পাঁচ
মাস আগে
তা বাদ
দিয়ে তিনি
নওগাঁ সদরে
প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকান দেন। এ
জন্য তিনি
তাঁকে দুই
লাখ টাকা
দিয়েছেন। এর
আগেও দুই
দফায় ৭০
হাজার টাকা
দিয়েছিলেন। এ ছাড়া একমাত্র সন্তান
হওয়ায় মেয়ের
মা-ও
তাঁকে না
জানিয়ে গোপনে
জামাইকে টাকা
দিতেন। নওগাঁয়
দোকান করার
পর তাঁরা
একটি ভাড়া
বাসায় থাকতেন।
এবার জামাইয়ের দাবি
ছিল আরও
১০ লাখ
টাকা। টাকা
না পেয়ে
গত ২৪
অক্টোবর রাতে
জামাই নাসিমার
গায়ে কেরোসিন
ঢেলে আগুন
ধরিয়ে দেন।
