জামালপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শকের নাটক অতঃপর হয়রানি ও ঘুষ নেয়ার অভিযোগ !

G M Fatiul Hafiz Babu
বকশীগঞ্জ(জামালপুর)প্রতিনিধি
জামালপুর মাদকদব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শকের বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় ও সহায়তা কেন্দ্রে হানা দিয়ে ওই কেন্দ্রের পরিচালক সহ ৪ জনকে আটকের পর ঘুষ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসময় ওই কেন্দ্রে থাকা ৯ জন মাদকাসক্ত রোগীকে মুক্ত করে দেয় তারা। ঘুষ ও হয়রানির বিষয়টি প্রকাশ করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল জরিমানা করারও হুমকি দেয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে ২৪ নভেম্বর মঙ্গলবার বকশীগঞ্জ পৌর শহরের থানা সংলগ্ন নিউ লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় ও সহায়তা কেন্দ্রে।
জানাগেছে, বকশীগঞ্জ পৌর শহরের সদর থানা সংলগ্ন “নিউ লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় ও সহায়তা কেন্দ্র”  নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এই মাদকাসক্ত কেন্দ্রে বিভিন্ন এলাকার মাদকাসক্ত রোগীরা চিকিৎসা নিয়ে আসছে।  
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শাহজাহান হোসাইন জানান, মঙ্গলবার দুপুরে জামালপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আমিনুল কবীরের নেতৃত্বে একটি দল ওই কেন্দ্রে অভিযান চালায়। ওই কেন্দ্রে মাদক ব্যবহার করা হয় এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচলনার সময় প্রতিষ্ঠানের মালিক শাহজাহান হোসাইন সহ তাদের স্টাফ রনি মাহমুদ, সোনা মিয়া, সুলতান মিয়াকে আটক করে। তাদের আটকের পর ওই কেন্দ্রে ব্যাপক তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে কোন ধরণের মাদক পাওয়া যায়নি। এসময় মাদকাসক্ত কেন্দ্রের ৯ জন মাদকাসক্ত রোগীকে অবমুক্ত করে দেয় তারা। পরে আটককৃতদের নেয়া হয় জামালপুরের পথে। প্রথমে নিলক্ষিয়া পরে ঝগড়ার চর বাজারে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক শাহজাহান হোসাইনের সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়া হয়। স্বাক্ষর নেয়ার পর দাবি করা হয় মোটা অংকের ঘুষ। শাহজাহান নিজের কাছে থাকা ৪ হাজার টাকা দিয়েও নিস্তার না পেয়ে তার নিকটাত্মীয়র মাধ্যমে আরও ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয় আমিনুল কবীরকে। অবশেষে তাদের ছেড়ে দেয় ওই পরিদর্শক। অন্যদিকে নিউ লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় ও সহায়তা কেন্দ্র থেকে ৯ জন মাদকাসক্ত রোগীকে ছেড়ে দেয়ার পর কয়েকজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না । তাদের অভিভাবকরা এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। মাদকাসক্ত কেন্দ্রটিতে অভিযানের নামে তাদের হয়রানি ও ক্ষতি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের পরিদর্শক আমিনুল কবীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাদকাসক্ত নিরাময় ও সহায়তা কেন্দ্রে মাদক ব্যবহার করা হয় এমন অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হলেও সেখানে কোন প্রকার মাদক পাওয়া যায়নি। তবে টাকার বিনিময়ে শাহজাহান ও অন্যান্যদের ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
বকশীগঞ্জ থানার ওসি মোস্তাছিনুর রহমান জানান, নিয়ম অনুযায়ী থানার একজন প্রতিনিধি কে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনার নিয়ম থাকলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আমাদের জানায়নি।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top