আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে

Unknown
সেবা ডেস্ক: মাথিয়ারায় জেলেপাড়ায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। আজ সোমবার দুপুরে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে হামলায় আহত অন্তঃসত্তা তুলসি রানী দাসকে দেখতে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তারা যে দলেরই হোক না কেন তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’ ড. মিজান বলেন, ‘প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে একটি অশুভ শক্তি কাজ করছে। তারা এ অভিযোগ থেকে মুক্ত, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকে এর প্রমাণ দিতে হবে।’ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘মাথিয়ারার ঘটনায় একজন নারী তার মাতৃত্ব হারিয়েছেন, একজন মায়ের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।’ ‘দেশের সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার সংবিধান দিয়েছে। অতীতে ব্লগার হত্যার বিচার না হওয়ায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারে সোপর্দ করতে হবে।’ তিনি বলেন, অপরাধীদের ধরার নামে নিরীহ জনগণকে যেন হয়রানি করা না হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেই তা নিশ্চিত করতে হবে। ‘অতীতে যেমন অপরাধীদের শনাক্তের নামে জজ মিয়া কাহিনি বানানো হয়েছিল, সে রকম কোনো কাহিনির সঙ্গে আমরা আর পরিচিত হতে চাই না। সত্যিকারের অপরাধীদের আইনের আওয়তায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’ গত ২৮ অক্টোবর বুধবার রাতে ফেনীর সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে মাথিয়ারা জেলেপাড়ার হিন্দু বাড়িতে আতশবাজী ফোটানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বখাটেদের সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এসময় ওই হিন্দু বাড়ির প্রসূতি তুলসি রানী দাসসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। হামলায় আহত তুলসি রানী দাস ঘটনার পরদিন ভোরে মৃত সন্তান প্রসব করেন। তুলসি রানী দাসসহ আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের মিজানুর রহমান ফেনী সদর হাসপাতালে যান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বিকম, সিভিল সার্জন ইসমাঈল হোসের সিরাজী, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল করিম, ফেনী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সারোয়ার জাহান, ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব মোর্শেদসহ স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা। 
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top