বিদ্যুৎখাতে চীনা বিনিয়োগ আহ্বান

S M Ashraful Azom
দেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগের জন্য চীনের শিল্পোদ্যাক্তাদের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরে অবকাঠামোসহ অন্যান্য খাতেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয় তাদের।
 
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে চীনের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৪০ বিলিয়ন ডলার (৪ হাজার কোটি ডলার) বিনিয়োগ করলে আগামী ৪ বছরের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি সম্ভব হবে। এ জন্য ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্  এবং জ্বালানি খাতের লক্ষ্য অর্জনের জন্য এলএনজি টার্মিনাল ও গ্যাসের পাইপলাইন করতে হবে। চীনের উদ্যোক্তাদের বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতে এই বিনিয়োগের বড় সুযোগ রয়েছে। এ জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া ৫০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উত্পাদনের সঙ্গেও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রস্তাব দেন তিনি।
 
ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কর্মাশিয়াল কাউন্সেলর ওয়াং ঝিজিয়ানও বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগে ইতিবাচক মত দিয়ে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা বলেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ৫০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। চীনের উদ্যোক্তারা এ খাতে আরও ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চান। গত বছরে চীনের বিনিয়োগ ছিল ২০০ কোটি ডলার। এ বছরেও ১৯০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হয়েছে।
 
চীনের ৫৪টি কোম্পানির ১২০ জন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বর্তমানে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা যাচাই করছেন। টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতের প্রতিনিধি ছাড়াও কৃষি, অবকাঠামো, কেমিক্যাল এনার্জি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, মোবাইল ফোন ও যন্ত্রাংশ, অটো পার্টস, পানি বিশুদ্ধকরণ প্রযুক্তি, সেবা খাত, প্রাথমিক ও মধ্যবর্তী কাঁচামাল, ই-কমার্স ও বৈদেশিক বাণিজ্য, গবেষণা, প্যাটেন্ট লাইসেন্সসহ বেশকিছু খাতের বিনিয়োগে আগ্রহ রয়েছে তাদের। এর বাইরে ব্যাংক, বীমা, হালকা প্রকৌশল এবং টেক্সটাইল উদ্যোক্তারাও সফরকারীদের তালিকায় রয়েছেন। গতকাল তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা খাতভিত্তিক আলোচনা করেন। ‘চায়না ঝিজিয়ান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলন’ নামে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের (সিসিপিআইটি)।
 
এ সময় বাংলাদেশের ২৫০ জন শিল্পোদ্যোক্তাও অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। তিনি বাংলাদেশের বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ কাজে লাগিয়ে সফররত চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
 
এ সময় সিসিপিটিআই ঝিজিয়ানের চেয়ারম্যান উ গুইয়াং বলেন, গত সাত বছর ধরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বিষয়ে আলোচনা চলছে। এখন যৌথ বাণিজ্য ও বিনিয়োগে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। বস্ত্র ও তৈরি পোশাক, খাদ্যপণ্য, বীমা, তথ্য ও প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে চান তার দেশের উদ্যোক্তারা।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top