
এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলংকার মাটিতে প্রস্তাবিত ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ এখনো নিশ্চিত নয় এবং ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনিল গাভাস্কার মনে করছেন পার্শ্ববর্তী দেশ দু’টি একে অপরের বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না খেললে বিশ্ব ক্রিকেটের কোনো ক্ষতি হবে না।
কিংবদন্তী ক্রিকেটার গাভাস্কার নয়াদিল্লি টেলিভিশনকে বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ক্রিকেট সিরিজ সকল প্রকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হতে পারে, তবে তারচেয়ে বেশি কিছু নয়।
তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড নিয়মিত অ্যাশেজ সিরিজ খেললেও তারা (ভারত-পাকিস্তান) ২০১২ সালের পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলছে না এবং তার আগেও এ দুই দল অনিয়মিতভাবে খেলেছে। অতএব আমি মনে করি না আদৌ এটা বিশ্ব ক্রিকেটে প্রভাব ফেলেছে’। এমনকি এটা (দ্বিপাক্ষিক সিরিজ) হলেও তা সেরা মানের ক্রিকেট হবে বলে মনে করছেন না গাভাস্কার।
গাভাস্কার বলেন, ‘উভয় দলের খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, উত্তেজনার মাত্রাটা খুব বেশি হবে না। সৌরভ গাঙ্গুলির নেতৃত্বে ২০০৪-০৫ মৌসুমে ভারতীয় দল যখন পাকিস্তান সফর করেছিল এবং ২০০৭-০৮ মৌসুমে ইনজামাম উল হকের নেতৃত্বে পাকিস্তান দল যখন ভারত সফর করেছিল তখন উত্তেজনার মাত্রাটা ছিল অনেক উঁচু। কেননা উভয় দলেই মানসম্মত খেলোয়াড় ছিল’।
সৌরভ গাঙ্গুলির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল পাকিস্তান সফরে ২০০৪-০৫ মৌসুমে টেস্ট (২-১) ও ওয়ানডে (৩-২) উভয় সিরিজ জিতেছিল। অনিল কুম্বলের নেতৃত্বে ২০০৭-০৮ সালে তিন টেস্টের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল ভারত। আর মহেন্দ্র সিং ধোনির অধিনায়কত্বে ৩-২ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয় করে ভারতীয়রা।
গাভাস্কার বলেন, ‘বর্তমানের দল দু’টির প্রতি পুরোপুরি শ্রদ্ধা রেখে আমি আবারো বলছি, প্রস্তাবিত সিরিজ হলেও ঐ দু’টির মত উত্তেজনাকর হবে তা আমি একদম নিশ্চিত নই’।
সরকারী সিদ্ধান্তকে অবশ্যই শ্রদ্ধা করতে হবে…
গাভাস্কার বলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তাবিত সিরিজের বিষয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) অবশ্যই সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে হবে। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে শ্রীলংকার মাটিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ শুরু হবে বলে গত মাসে ঘোষণা দেয় বিসিসিআই।
প্রস্তাবিত সিরিজটি পাকিস্তানের হোম সিরিজ এবং শ্রীলংকায় ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সীমিত ওভারের সিরিজ খেলতে ইতোমধ্যেই সরকারের কাছ থেকে অনুমতি পেয়েছে পাক বোর্ড। বাসস
