‘২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে এইডস নির্মূল সম্ভব’

Unknown
0
সেবা ডেস্ক: ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে এইডস নির্মূল ‘সম্ভব’ বলে মনে করছেন জাতিসংঘের এইচআইভি ও এইডস বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডস এর কান্ট্রি ডিরেক্টর লিও কেনি।
বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে তিনি এই আশা প্রকাশ করেন।
এ লক্ষ্য অর্জনে এইচআইভি কর্মসূচিতে চারটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইউএনএইডস এর কান্ট্রি ডিরেক্টর। সেগুলো হচ্ছে- নির্দিষ্টকরণ, মাত্রা বাড়ানো, উদ্ভাবন এবং স্থায়ীত্ব।
মঙ্গলবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হচ্ছে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) ‘২০৩০ সালের মধ্যে এইডস নির্মূলের’ লক্ষ্য নির্ধারণের পর এবারই প্রথম বিশ্বব্যাপী এইডস দিবস পালিত হচ্ছে।
যার অর্থ এইচআইভিতে আক্রান্তের ঘটনা বা এইডসে মৃত্যুর হার এমন পর্যায়ে নিয়ে আসা, যাতে কোনো দেশ বা জনগোষ্ঠী আর বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে না থাকে।
ওই পর্যায় বোঝাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘৯০-৯০-৯০’ সূচক নির্ধারণ করেছে। যার অর্থ- প্রতিটি দেশে এইচআইভি আক্রান্তের অন্তত ৯০ শতাংশকে চিহ্নিত করা, চিহ্নিতদের ৯০ শতাংশকে প্রতিষেধকের আওতায় আনা এবং তাদের শরীরে থাকা ভাইরাসের ৯০ শতাংশ দমন করা।
বিশ্বব্যাপী ঐকমত্য এসেছে যে, কোনো দেশ যদি এই ‘৯০-৯০-৯০’ সূচক অর্জন করতে পারে তাহলে সেই দেশে এইডসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ‘শূন্যে’ নেমে আসার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত বৈষম্যের হারও ‘শূন্যে’ নামবে।
লিও কেনি বলেন, এটা ‘উচ্চাকাঙক্ষী’ লক্ষ্য হলেও বাংলাদেশ তা অর্জন করতে পারে।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চারটি দেশের মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ, যেসব দেশে এইচআইভির বিস্তার মোট জনগোষ্ঠীর ০.১ শতাংশেরও কম।
সরকারি হিসাবে, ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে এইচআইভি আক্রান্ত ছিলেন ৩ হাজার ৬৭৪ জন, যাদের মধ্যে ৫৬৩ জন এইডসে মারা গেছেন।
তবে ইউএনএইডস এই সংখ্যাকে ‘সঠিক’ বলে মনে করে না।
তাদের ধারণা, বাংলাদেশে উন্নত পরীক্ষাগার ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধার অভাবের পাশাপাশি সামাজিক অসচেতনতার জন্য এইচআইভি আক্রান্ত দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ ‘জানেনই না’ যে তারাও এর শিকার।
কেনি মনে করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এইডস নির্মূলে ‘তিন শূন্যর’ লক্ষ্য অর্জনে এই অংশকেও অবশ্যই পরীক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তবে এক্ষেত্রে ‘ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি’ দেখানো যাবে না।
“যেসব এলাকা বা অঞ্চলে এইচআইভি সংক্রমণের হার ও ঝুঁকি বেশি সেসব স্থানে প্রতিরোধ, চিকিৎসা, যত্ন ও সহযোগিতার মাত্রা আরও বাড়াতে হবে।
“পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রসূতিকালীন চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র, যক্ষ্মা নিরাময় কেন্দ্র ও সীমান্তবর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সমন্বিতভাবে এইচআইবি সনাক্তকরণ ও সে সম্পর্কে জানার ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এসব বিষয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশকে ‘আইনি ও সামাজিক বৈষম্য কমানো’র উপর জোর দিতে হবে বলে মনে করেন ইউএনএইডসের কান্ট্রি ডিরেক্টর।
“আক্রান্ত ব্যক্তিরা যাতে সামাজিকভাবে লজ্জা ও বৈষম্যের শিকার না হয়ে জীবনভর চিকিৎসা সেবা পান সে বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বলেন, “আমাদের দরকার চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধের মাধ্যমে এইডস সংক্রান্ত মৃত্যু কমিয়ে আনা।”
সরকারকে বুঝতে হবে দাতারা অনবরত তহবিল দিয়ে যেতে পারে না- একথা উল্লেখ করে লিও বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে তার নিজস্ব সম্পদ থেকেই কাজ করতে হবে এবং সামাজিক উন্নয়ন এজেন্ডায় এইচআইভি ও স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।
ট্যাগস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top