পনের বছর বয়সী আদিনা তার বিছানায় একটি চাদর মুড়ি দিয়ে গুঁটিসুটি মেরে শুয়ে আছে। তার শরীর এইডস আক্রান্ত হয়ে বিপর্যস্ত। শুধু আদিনা নয় এ রকম আরো অনেকেই ইন্দোনেশিয়ার পূর্বপ্রান্তের পাপুয়া অঞ্চলে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়া এইডস মহামারীর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। কিশোর আদিনার এইডস সংক্রমণ ঘটেছে এইডস আক্রান্ত এক বয়ফ্রেন্ডের কাছ থেকে। সে বর্তমানে এক ক্যাথলিক ব্রাদার অগাস্টিলাস আদিল পরিচালিত একটি হোটেলে ফ্রি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছে।
হোস্টেলটিতে আদিনাসহ মোট ১০ জন এইডস রোগী রয়েছেন। এখানে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত নানা বয়সের বিভিন্ন পর্যায়ের এইডস রোগী রয়েছেন। কারো কারো রোগ এখনো খুব মারাত্মক পর্যায়ে উপনীত হয়নি। আবার কেউ কেউ একেবারে অস্থি-চর্মসার হয়ে বিছানায় বন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেকে এখানে এসেছে এইডস ধরা পড়ার পর পরিবার কর্তৃক পরিত্যক্ত হয়ে। দারিদ্র্য পীড়িত পাপুয়ায় এইডস এর সংক্রমণ ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এইডস আক্রান্ত হওয়াকে এখানে এখনো সামাজিক কলংক হিসেবেই দেখা হয়।
মঙ্গলবার বিশ্ব এইডস দিবসে অধিকার কর্মীরা বলেন, পাপুয়ায় এইডস মোকাবেলায় সরকারি প্রয়াস অপ্রতুল। তারা মনে করেন, ওয়ায়েনার ছোট্ট বেসরকারি হোস্টেলটির মতো ক্ষুদ্র উদ্যোগের পক্ষে এইডস মোকাবেলা সম্ভব নয়। ইন্দোনেশিয়া এইডস কোয়ালিশনের আদিত্য বর্ধন বলেন, এইচআইভি সংক্রামণ রোধে সরকারি প্রচেষ্টা পুরনো ধাঁচের। তিনি বলেন, সরকারি প্রচেষ্টা যৌন কর্মীদের মতো গ্রুপে কেন্দ্রীভূত, অথচ পাপুয়ার পুরো জনগোষ্ঠীর মধ্যেই এখন এইচআইভি ছড়িয়ে পড়েছে।
পাপুয়ায় এইডস সংক্রমণের মূল কারণ পতিতাবৃত্তি। এখানে এইচআইভি সংক্রমণের হার ২.৩ শতাংশ। অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ইন্দোনেশিয়ায় এইডস আক্রান্তের হার দশমিক ৪৭ শতাংশ। সারা বিশ্বে এইডস সংক্রমণ ৩৫ শতাংশ কমে এলেও পাপুয়ায় তা উপরেই থেকে গেছে। বাসস


খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।