
ব্যাংকগুলোর অটোমোটেড টেলার মেশিন (এটিএম) ও পণ্য কেনাকাটায় পয়েন্ট অব সেলস (পস) ব্যবহারে লেনদেনে গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি কিছু ব্যাংক প্রযুক্তিগত কারিগরী ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে স্থানীয় আন্তঃব্যাংক লেনদেনে অতিরিক্ত চার্জ আদায় করা হচ্ছে, এ প্রেক্ষিতে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস্ বিভাগ একটি পরিপত্র জারি করে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) নেটওয়ার্কের আওতায় সম্পাদিত আন্তঃব্যাংক এটিএম ও পস লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকস্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু অনেক ব্যাংক প্রযুক্তিগত সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে স্থানীয় আন্তঃব্যাংক এটিএম লেনদেনে নির্ধারিত চার্জের তুলনায় অতিরিক্ত চার্জ নেয়া ও মার্চেন্ট পয়েন্টে পস লেনদেনে গ্রাহকদের নিকট হতে পণ্য বা সেবা মূল্যের অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। যা গ্রাহক স্বার্থের পরিপন্থী। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধি অনুসারে, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) আওতায় আন্তঃব্যাংক এটিএম ব্যবহার করে নগদ অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে লেনদেন প্রতি সার্ভিস চার্জ ভ্যাটসহ ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে গ্রাহককে দিতে হবে ১৫ টাকা আর কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংককে দিতে হবে পাঁচ টাকা। এছাড়া মিনি স্টেটমেন্ট এবং ব্যালান্স দেখতে হলে হলে প্রতি লেনদেনে পাঁচ টাকা দিতে হবে। যার পুরোটাই গ্রাহকের কাছ থেকে নেয়া হবে।
২০১৪ সালের ১৮ মার্চ এক পরিপত্রের মাধ্যমে এনপিএস আওতায় আন্তঃব্যাংক এটিএম লেনদেনের চার্জ নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই নির্দেশনায় অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথ ব্যবহার করে টাকা তুললে প্রতি লেনদেনে ২০ টাকা দিতে বলা হয়। এর মধ্যে ১০ টাকা কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক এবং গ্রাহককে পরিশোধ করতে হয় ১০ টাকা। তবে গত ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক কোন চার্জ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর বাণিজ্যিক ব্যাংক ও স্টেক হোল্ডারদের স্বার্থ বিবেচনা করে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। ফলে এখন থেকে গ্রাহককে দিতে হয় ১৫ টাকা আর কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংককে দিতে হয় পাঁচ টাকা।

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।