মাহবুবুর রহমান,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: চলনবিলের তাড়াশ উপজেলায় কৃষি জমি খনন ও পানি নিষ্কাশনের পথ মাটি দিয়ে বন্ধ করার হিড়িক পড়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব কাজ করা হলেও যেন দেখার কেউ নেই। আর পরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করায় বন্যার সময় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় কৃষি জমি খনন করে পুকুর তৈরি করছেন একশ্রেণির কৃষক। এসব কৃষক জানান, ধানের চেয়ে মাছের আবাদ লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক ধানী জমি খনন করে পুকুর তৈরি করছেন। এছাড়া রাস্তার নালা মাটি দিয়ে ভরাট করে বাসাবাড়িও নির্মাণ করছেন। অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর খনন ও রাস্তার নালা বন্ধ করায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে বলে নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাড়াশ উপজেলা সদর থেকে প্রায় সকল রাস্তার নালা মাটি দিয়ে ভরাট করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে মাছ চাষিরা। এমনকি রাস্তার ব্রিজের মুখ পর্যন্ত বন্ধ করতেও তারা কোনো তোয়াক্কা করছে না। চলতি বছরে অপরিকল্পিত ভাবে তাড়াশের পূর্ব, উত্তর ও পশ্চিম এলাকার রাস্তার পার্শ্বের নালা মাটি দিয়ে ভরাট করায় মাঠ থেকে বন্যার পানি নিষ্কাশন বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে রবি শস্যের আবাদ হুমকির মুখে পড়ে। তাড়াশের পূর্ব মাঠে এবার জলাবদ্ধতার কারণে কৃষক সরিষার আবাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। রাস্তা সংলগ্ন স্থানে পুকুর তৈরির কাজ বেশি হচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন, রাস্তার নালা বন্ধ, পানি নিষ্কাশনের পথে বাধা সৃষ্টিসহ ফসলের ক্ষতি হয় এমন কাজ দিনদিন বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত থাকলে এক সময় জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকের আবাদ করা কঠিন হয়ে পড়বে। প্রয়োজনে আইন করে এ সব কাজ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে কৃষক।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করায় বন্যার সময় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এতে এ এলাকার কৃষকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারিভাবে কৃষি জমি খনন করে পুকুর তৈরির কোনো আইন ও বিধিমালা না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না। তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান খান জানান, রাস্তার নালা বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ করছে এমন কোনো অভিযোগ আমার কাছে নেই।