সেবা ডেস্ক: নীলফামারী থেকে রাজশাহীগামী আন্তঃনগর বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনে কর্তব্যরত দুই জিআরপি থানা পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এক নারী ট্রেন যাত্রীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার সকালে ওই ট্রেনে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নারী যাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে ওই ট্রেনে কর্তব্যরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক এমরান হোসেনের কাছে মৌখিক ভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুই পুলিশ রেলওয়ে সৈয়দপুর জিআরপি থানার সদস্য বলে জানা গেছে।
লাঞ্ছিত নারী ট্রেন যাত্রীর অভিযোগে জানা গেছে, সে তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ভাঙ্গাজাঙ্গাল হরিপুর গ্রামে যাওয়ার জন্য সান্তাহার জংশন স্টেশনে শনিবার সকালে আসেন। তিনি রাজশাহীগামী বরেন্দ্র আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কাটেন। সকাল ১০টার দিকে ট্রেনটি সান্তাহার জংশন ষ্টেশনে আসলে তিনি ট্রেনে উঠে তার নির্ধারিত আসনে বসেন। ট্রেন ষ্টেশন থেকে ছাড়ার পর ট্রেনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের দুই সদস্য আব্দুস সাত্তার এবং হাবিব ওই কামরায় ওঠেন। তারা ওই কামরায় দাড়িয়ে থাকা দুই যাত্রীর নিকট থেকে টাকা নেন। পরে তারা নারী ট্রেন যাত্রীকে তার আসন ছেড়ে দিতে বলেন। এতে ওই নারী ট্রেন যাত্রী তাদেরকে বলেন, 'আমার কাছে টিকিট রয়েছে আমি কেন আমার আসন ছাড়বো।'
এরপরও দুই পুলিশ তাকে আসন ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এতেও ওই নারী যাত্রী তার আসন না ছাড়লে দুই পুলিশ সদস্য হাবিব ও সাত্তার তার হাত ধরে টেনে হিঁচড়ে তাকে আসন থেকে তুলে দেন। পরে তারা টাকা নেওয়া দুই যাত্রীকে ওই আসনে বসিয়ে দেন। পুলিশের এ ধরনের আচরণে ওই কামরার যাত্রীরা হতভম্ব হয়ে যান। পরে ওই নারী যাত্রী মুঠোফোনে বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের অবহিত করেন। ঘটনা জানানোর জন্য ওই ট্রেন যাত্রীর বড় ভাই রফিকুল ইসলাম মন্টু বিষয়টি সান্তাহার জিআরপি থানা পুলিশকে অবহিত করে এবং ট্রেনে কর্তব্যরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক এমরান হোসেনের কাছে এর বিচার দাবি করেন।
শনিবার রাতে মুঠোফোনে উপ-পরিদর্শক এমরান হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি শুনেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, 'বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।' এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আজাদ হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।