বিনা বেতনের বিদ্যালয়

S M Ashraful Azom
0
বিনা বেতনের বিদ্যালয়
জামালপুর সংবাদদাতা: জামালপুর সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চলের একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় নান্দিনার খড়খড়িয়া রুমিজা মমিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ২৪ বছর যাবৎ বিনা বেতনে লেখাপড়া করছে। 
ইতোমধ্যেই নারী শিক্ষায় বিদ্যালয়টি সুনাম অর্জন করেছে। প্রায় ৩০ বছর যাবৎ প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। মানসম্পন্ন পাঠদানের কারণে অভিভাবক মহলের নজর এবং বিশ্বস্ততা অর্জন করেছে বিদ্যালয়টি। 
১/১/১৯৯৪ সনে প্রতিষ্ঠার পর চলছে নিবেদিত শিক্ষার আলোর ছড়ানোর কাজ। নান্দিনা শেখ আনোয়ার হোসাইন কলেজের পাশেই স্কুলেটি মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। বিশিষ্ট শিল্পপতি-শিক্ষানুরাগি ও ব্যবসায়ী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এবং রানাগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: আব্দুল জলিল স্কুল প্রতিষ্ঠাতার উদ্যোক্তা। 
প্রথমে টিনশেড ঘরে নারী শিক্ষার যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে শিক্ষাবিভাগ থেকে একটি ফ্যাসিলিটিজ ভবন নির্মাণ করা হয়।

বর্তমানে ৪শতাধিক ছাত্র স্কুলে লেখাপড়া করছে। শিক্ষক আছেন ২০জন। মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা চালু আছে।এরপরও ২০১৫ হতে এখানে ভোকেশনাল শাখা খোলা হয়েছে। ২০০৯ থেকে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি প্রোগ্রাম চলমান রয়েছে। রুমিজা মমিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যতম সেরাদিক হলো এখানে লেখাপড়া করতে কোনো ছাত্রীকে মাসিক বেতন পরিশোধ করতে হয় না।এতে দরিদ্র মেধাবী ছাত্রীরা সহজে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।

ছাত্রীরা প্রতি বছরই জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে আসছে। গত ৫ বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফলাফল দেখা যায় ২০১৩ সনে অত্র স্কুলে জেএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৮৮%। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩জন। ২০১৪ সনে জেএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৯০%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২জন। ২০১৫ সনে জেএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৯২%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩জন।

২০১৬ সনে জেএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৯৬%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪জন। ২০১৭ সনে জেএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৯৪%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯জন। এবং ওই বছর বৃত্তিলাভ করে ৩জন। এদিকে গত ২০১৪ সনে এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৯৩%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২জন। ২০১৫ সনে এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৯৭%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২জন। ২০১৬ সনে এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৯৫%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭জন। এবং বৃত্তিলাভ করে ৩জন।

২০১৭ সনে এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৯০%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩জন। এবং বৃত্তিলাভ করে ১জন। ২০১৮সনে এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৯৯%।
বিদ্যালয় ম্যনেজিং কমিটির সাবেক সদস্য আব্দুল হক শাহীন, প্রধান শিক্ষিকা কে,এস,এম বদরুন্নাহার জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের প্রধান বৈশিষ্ট হলো এখানে লেখাপড়া করতে কোনো ছাত্রীর বেতন লাগে না। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আমরা ছাত্রীদের বিনাবেতনে লেখাপড়া করাচ্ছি। বিনা বেতনের কার্যক্রম চলে আসছে ২৪ বছর ধরে। বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেয়া হয়। ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রী ভর্তি কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি। কথা হয় অত্র বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সদর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি, জেলা পরিষদ সদস্য ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো: নজরুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান ‘নারী শুধু শিক্ষিত নয়, তারা হবে সংসার, সমাজ ও দেশ গঠনের দক্ষ কারিগর’।
⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top