কুমুর বড়ই তৈরিতে ব্যস্ত নন্দীগ্রামের কারিগররা

S M Ashraful Azom
0
কুমুর বড়ই তৈরিতে ব্যস্ত নন্দীগ্রামের কারিগররা
ফারুক কামাল, নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি: কুমুর বড়ি, এক সুস্বাদু খাবার। বিভিন্ন তরকারীর সাথে এ খাবার এনে দেয় ভিন্ন রকমের স্বাদ। গ্রামেগঞ্জে শহরে সবখানেই প্রায় সব শ্রেণির মানুষ এই কুমুরবড়ির প্রতি আকৃষ্ট। কবে এ খাবার প্রথম তৈরী অথবা কিভাবে এর নাম করন তা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা না গেলেও শীতকালে এ খাদ্যদ্রব্য হাটে বাজারে ব্যাপকহারে পাওয়ো যায়। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ‘কুমুড় বড়ই’ তৈরীর কারিগররা ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি উপজেলার হাটধুমা গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে তৈরি করা হচ্ছে ‘কুমুড় বড়ই’।

শীতকালে উপজেলা বাড়তি খাবার তৈরী, বিপনন, বাণিজ্য হয়ে থাকে। ভিন্ন পদের খাবারের পদের মধ্যে কুমুর বড়ই অন্যতম। শীত মানেই বাড়তি কিছু চাওয়া, বাড়তি কিছু পাওয়া, আর প্রাপ্তি। কুমুর বড়ই তৈরীর যেমন হিড়িক পড়েছে। তেমনি ব্যবসায়িদের আনাগোনা বেড়েছে। গ্রামীণ নারীরা মৌসুমি খাদ্য হিসেবে ও সংসারের বাড়তি আয়ের জন্য কুমুর বড়ই তৈরি করে যাচ্ছে।

কুমুর বড়ই তৈরির পর স্থানীয় ও পাশের উপজেলাসহ নাটোর, পাবনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ জেলার দোকানিরা এসে পাইকারি কিনে নিয়ে যায়। এতে করে নিজেদের খাবারের পাশাপাশি বিক্রয় করে বাড়তি আয় হয় বলে গৃহবধুরা জানান। কিন্তু বর্তমানে গৃহীনি-তরুনীরা কুমুর বড়ই তৈরীতে কেউ বসে নেই। সাংসারিক কাজের ফাঁকে গৃহবধুরাই মুলত প্রধান কারিগর। কুমুর বড়ই তৈরী ও বিক্রি করে অনেকেই সংসারের বাড়তি আয় করে থাকে।

মাশকালাই ও খেসারি ডাল থেকে তৈরি করা এই সুস্বাদু খাবার শুধু শীতের সময়ই তৈরি এবং বিক্রি হয়ে থাকে। যা সারা বছরের খাদ্য হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এই উপজেলা ও জেলার বাইরে। সবজি ছাড়াও প্রায় সব তরকারিতে এই খাদ্য সহযোগী উপাদান হিসেবে ও আলাদাভাবে ছানা (ভর্তা) করেও কুমুর বড়ই খাওয়া যায়।

উপজেলার হাটধুমা গ্রামের জাহানারা বেগম জানান, মাশকালাই ডাল কুমুর বড়ই তৈরীর প্রধান উপাদান। তবে এর সঙ্গে চাল মিশিয়ে যে বড়ই তৈরি করা হয় তার কদর থাকলেও মান ভাল না। কুমুর বড়ই তৈরির প্রক্রিয়া হিসেবে তিনি জানান, সারা রাত পানিতে মাসকালাই ডাল ভিজিয়ে রাখার পর তা পিঁষে প্রতিদিন ভোরে গ্রাম্য বধুরা পাতলা কাপরের ওপর রোদে শুকাতে দেয়া হয়। দেড় থেকে দুই দিন শুকানোর পর কুমুর বড়ই খাওয়ার উপযোগী হলে বিভিন্ন দোকানে পাইকারী এবং খুচরা বিক্রয় করা হয়।

কখনও কখনও বড় বড় মহাজন ও ছোট ছোট দোকানিরা নিজেরাই এসে কিনে নিয়ে যায়। একই গ্রামের কুমুর বড়ই বিক্রেতা আছির উদ্দিন জানান, মাসকালাই থেকে তৈরি আসল কুমুর বড়ই প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রয় করা হয়। আর মাসকালাই ও চাল মিশানো কুমুড় বড়ই ২০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য মানের কুমুরবড়ই প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে কুমুর বড়ই তৈরির উপযুক্ত সময়। এই তিন মাসে যতটুকু কুমুর বড়ই উৎপাদন করা হয় তা বছরজুড়ে বিক্রি হয়। তিনি জানান, এই উপজেলা ছাড়াও আশপাশের এলাকা থেকে পাইকারি ব্যবসায়িরা এসে কুমুর বড়ই কিনে নিয়ে যায়।


⇘সংবাদদাতা: ফারুক কামাল
ট্যাগস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top