
রফিকুল আলম,ধুনট (বগুড়া): গেল কয়েক বছরের মধ্যে ২০১৯ সালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানুষের কাছে আলোচনার শীর্ষে ছিল বেশ কয়েকটি ঘটনা। এসব ঘটনার মধ্যে সেরা ৫টি ঘটনা সর্বস্তরের মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এরমধ্যে বছরের শুরুতে নানার ধর্ষণের শিকার এক স্কুলছাত্রীর সন্তান প্রসব, ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করায় ফুঁসে উঠে জনতা, নেশার টাকা না পেয়ে মাকে পুড়িয়ে হত্যা, তিন দিনে ভ্যান চালকের ধর্ষণের শিকার ৬ শিশু শিক্ষার্থী এবং এক নববধুকে নিয়ে স্ত্রীর দাবীদার দুই স্বামীর মধ্যে সংঘর্ষ।
থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোহনপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্যর মেয়ে কৈয়াগাড়ি গ্রামে নানা রশিদ মন্ডলের বাড়ি থেকে স্থানীয় বালিকা বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে লেখাপড়া করতো। নানার বাড়ির পাশে অফের আলীর ছেলে বকুল মন্ডল (২৩) স্কুলছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে বকুল হোসেন ঘরে ঢুকে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষনের সময় হাতেনাতে ধরে ফেলে নানা। ঘটনাটি প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে নানা রশিদ নাতনিকে ধর্ষন করে। ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্বা স্কুলছাত্রী ১ জানুয়ারী বাবার বাড়িতে পুত্র সন্তান জন্ম দেয়।
উপজেলার পিরহাটি গ্রামের শুভাষ চন্দ্রের ছেলে শুভ কুমার নামে এক যুবক ২৫ ফেব্রæয়ারী নিজস্ব ফেসবুক ওয়ালে ইসলাম ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কটুক্তি করে। এছাড়া একই ফেসবুক ওয়ালে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে ব্যঙ্গচিত্র প্রচার করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে এলাকাবাসী। পরে শুভ কুমারকে গ্রেপ্তারের পর পরিবেশ শান্ত হয়।
উপজেলার গজারিয়া গ্রামের আব্দুস ছামাদের ছেলে সোহানুর রহমান খোকন বিভিন্ন ধরনের মাদক দ্রব্য সেবন করে। ভয়ভীতি দেখিয়ে মা-বাবার নিকট থেকে প্রতিদিন মাদক দ্রব্য কেনার টাকা নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১ সেপ্টেম্বর মা-বাবার নিকট মাদক দ্রব্য কেনার টাকা দাবী করে সোহানুর। কিন্ত মা-বাবা টাকা দিতে অস্বীকার করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সোহানুর তার বৃদ্ধা মা খুকি বেগমকে ধরে নিয়ে ঘরের ভেতর খাটের সাথে হাত-পা বেঁধে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে।
এছাড়া তিন সন্তানের জনক সিরিয়াল ধর্ষক জয়নাল আবেদীন পেশায় অটোভ্যান চালক। সে উপজেলার গোপালপুর খাদুলী গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। ধর্ষণের শিকার ৬ শিশু শিক্ষার্থী জয়নালের প্রতিবেশী। তারা স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এসব শিশুদের মাঝে ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে ২ শিশু, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ২ শিশু এবং ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে আরো ২ শিশু জয়নালের বাড়িতে জলপাই কুড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে ২২ নভেম্বর রুমানা খাতুন নামে এক নববধূকে নিয়ে দুই স্বামীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রীর দাবীদার দুই যুবকের মধ্যে একজন উপজেলার নবিনগর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে জুয়েল রানা (২৬) এবং অন্যজন একই এলাকার বিলচাপড়ি গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে কাজল মিয়া (২২)।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর সন্তান প্রসব, ধর্ম নিয়ে কটুক্তি, নেশার টাকা না পেয়ে মাকে পুড়িয়ে হত্যা, ৬ শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় থানায় পৃথক পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলার আসামীরা কারাগারে আটক রয়েছে। মামলা গুলো তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া এক নববধুকে নিয়ে দুই স্বামীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাটি উভয় পরিবারের লোকজন সমঝোতা করে নিয়েছে।
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।