ধুনটে করোনায় খাদ্যাভাবে শিক্ষকদের পরিবার

S M Ashraful Azom
ধুনটে করোনায় খাদ্যাভাবে শিক্ষকদের পরিবার

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া): করোনার কারণে আগে থেকেই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এখন চলছে লকডাউন। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন সব শ্রেণীপেশার মানুষ। এরমধ্যে কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকদের পরিবারে চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ। কারণ তাদের পরিবার চলে শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায়। অস্বচ্ছল পরিবারের এসব শিক্ষকদের সহায়তায় কেউ এগিয়ে না আসায় চরম বিপাকে পড়েছেন। 

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বেসরকারিভাবে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকদের সাথে কথা বলায় তাদের দূর্বিষহ জীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে।

জানা গেছে, উপজেলার ৩৫টি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে (কেজি) কমপক্ষে ৪০০ জন শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োজিত রয়েছেন। তারা প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠশিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই  শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতনের টাকায় পরিচালিত হয়। শিক্ষাথীদের টাকায় শিক্ষকরা বেতন ভাতা পেয়ে থাকেন। তা দিয়ে চলে শিক্ষকদের অস্বচ্ছল পরিবারের ভরণপোষন। 

কিন্ত প্রতিষ্ঠান গুলো ছুটির থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের বেতনও বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে এসব শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন। ফলে কোনোদিক থেকেই তারা উপার্জন করতে পারছেন না। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অর্থবিত্ত না থাকলেও সমাজে তারা শিক্ষক হিসেবেই সম্মানীয়। ফলে তারা না পারছে লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতে, না পারছেন মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলতে। ফলে মানুষ গড়ার কারিগররা এখন তাদের সংসারের ব্যয়ভার বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন শিক্ষক বলেন, কেজি স্কুলে শিক্ষকতা ও প্রইভেট পড়িয়ে কোনো রকম পরিবারের খরচ সামাল দিচ্ছি। এমনিতেই কেজি স্কুল থেকে ঠিকভাবে বেতন পাই না তার উপর করোনায় লকডাউন। ফলে আর্থিক অস্বচ্ছল শিক্ষকদের পরিবারে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে। শিক্ষিত মানুষ চক্ষু লজ্জার ভয়ে কাউকে বলতেও পারছি না আবার সইতেও পারছি না। তাই সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষেরা যেন আমাদের কষ্টটা একটু বুঝার চেষ্টা করেন।

ধুনট উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এ্যাসোশিয়সনের মহাসচিব শাহ আলম বলেন, আমাদের কেজি স্কুলের শিক্ষকরা সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা পাইনা। এই দুর্যোগ মুহুর্তে এখনো পর্যন্ত আমাদের শিক্ষকরা সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো ধরনের সহযোগিতা না পাওয়ায় তাদের পরিবারে হাহাকার বিরাজ করছে। চলমান দুর্যোগে আমাদের শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি সহায়তার আবেদন জানাচ্ছি। 

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা জানান, আমরা তাদের বিষয়টি চিন্তা করছি। আশা করছি তারাও সহায়তার আওতায় আসবে। এই বিপদে তাদের পাশে রয়েছি। তাদের সহায়তার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।


ভিডিও নিউজ


-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন


ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top