
শামীম তালুকদার: সৃষ্টির সূচনালগ্ন হতে আজ অবধি এরকম পরিস্থিতির মুখে পড়েনি এ পৃথিবী এবং এর অন্তভুক্ত দেশসমূহ। এই পৃথিবীতে অনেক মহামারী, দুযোগ বয়ে গেলেও একই সাথে সমগ্র পৃথিবীর থমকে যাওয়া এই প্রথম।
বাংলাদেশে প্রথম করোনা সনাক্ত হয় ৮মার্চ। তারপর ধীরে ধীরে নানা পদক্ষেপে দেশ লড়ছে করোনার মহামারী রোধে। এ ক্ষেত্রে ডাক্তাররা রয়েছেন সম্মুখ সমরে। যদিও প্রথম দিকে তারা পিপিই, নিরাপত্তা, ঝুঁকির কথা বলে অনেকটা সময় নষ্ট করেছেন।
এখনও অবাক করার ব্যাপার যে প্রাইভেট প্র্যাকটিস তারা বন্ধ রেখেছেন। আবহাওয়ার পরিবর্তনে মানুষ জ্বর সর্দিকাশি, নানা ছোটখাট অসুখে পড়ছেন। তাদের কিন্তু অসহায়ভাবে বাড়িতেই রয়ে যেতে হচ্ছে বিনা চিকিৎসায়। এই চিকিৎসকরা ২০০ থেকে ৪০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়েও প্রতি সপ্তাহে রোগী দেখতেন। কিন্তু এ সময়ে তাদের কোন খবর নেই, অনেকে বাসায় নিকটের প্রাইভেট প্র্যাকটিসও করছেন না, এমনকি অনেকে বাসায়ও রোগী দেখছেন না।
অথচ তারা শুধুমাত্র টাকার জন্যই হাসপাতাল ছাড়াও ব্যক্তিগত এসব প্রাইভেট ফার্মেসিতে অহরহ রোগী দেখেন।
এত পড়াশোনা করেই যদি এত অমানবিক আচরণ করেন, তবে জাতি, কাদের নিয়ে এগিয়ে যাবে, কাদের উপর ভরসা করবে! যাদের করের টাকায় পড়াশোনা হলাে, সেই তাদের চিকিৎসা দিতে এত ছলচাতুরীর আশ্রয় কেন নিতে হবে?
টাকার প্রতি ডাক্তার যত ডেসপারেট ততটা ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, সরকারী কর্মকর্তারা নয়। অথচ দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী তারা।
পার্থক্যে যাব না। একটি গল্প শুনেছিলাম এরকম, একজন ডাক্তার গিয়েছেন পবিত্র হজ্বে, মক্কা নগরীতে গিয়ে নাকি তিনি মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট দোয়া করেছেন যে তার প্রাইভেট চেম্বারে যেন রোগী আসে।
রোগী আসতে হলে মানুষের রোগ হতে হবে, সেটা হয়ত সে সময় তিনি চিন্তা করতে পারেননি। নিজের চেম্বারে রোগীর ভীড়টাই তিনি আশা করেছেন মাত্র।
যা হোক দেশের মানুষের প্রতি কমিটমেন্ট থাকতে হবে, দরদ রাখতে হবে তবেই মানুষের মনে জায়গা রবে আজীবন।
জাতির এ কঠিন সময়ে যদি তা জাগ্রত না হয় তবে কখন হবে? কখনও তা হবে না এটাই সত্য। যখন N-19 মাস্ক নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে তখনি স্বাস্থ্য খাতের এক ডিজির আসল পরিচয় উন্মোচিত হওয়ার খবর পত্রিকায় এসেছে।
তখন স্বভাবতই প্রশ্ন স্বাস্থ্য খাতে অহরহ লোক ঘাপটি মেরে আছে। যারা সকল ভালো উদ্যোগের সুকৌশলে বাধাঁ সৃষ্টি করে।
এসব এখন বলার সময় না সময়মত এর বিচার হবে, শাস্তি হবে।
এদিকে ডা. মঈন করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, যিনি বিনা ফিতে তার গ্রামে রোগী দেখতেন, কোন ভাষা নেই তার অবদানের কথা বলে শেষ করার। শুধু তার মৃত্যুর পর চিকিৎসক স্ত্রী বলেছেন স্বামী যেমন দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন তেমনি আমিও প্রস্তুত আছি, করোনাক্রান্ত মানুষের সেবায় এক বিন্দু পিছপা হবোনা।
এই হলো প্রকৃত ডাক্তার কিন্তু আমরা মানবিক ডা. মঈন এর মত দেশপ্রেমিক ডাক্তারকে বাঁচানোর যথাযথ চেষ্টা না করার জন্য অনেক মনোঃকষ্ট পেতে থাকবো। প্রয়াত মঈন রয়ে যাবেন আজীবন মানুষের মনিকোঠায়। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী মানবিক ডা. মঈনের পরিবারের আজীবনের দায়িত্ব নিয়েছেন।
এটিই একমাত্র ব্রত হোক অবশিষ্ট নব্বই হাজার ডাক্তারের করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চলবে পরাস্ত করার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত।
অর্থ নয় মানবিক আমরা মানুষের প্রতি, মানবিক আমরা অসহায়দের প্রতি, মানবিক আমরা করোনা ঝুঁকিতে দেশের সকল মানুষের প্রতি, সেবাই আমার একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
এই প্রতিজ্ঞা হোক আমাদের চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত সবার।।
