দরিদ্রদের সবজিখিচুড়ি খাওয়াচ্ছেন মেলান্দহের ওসি

S M Ashraful Azom
দরিদ্রদের সবজিখিচুড়ি খাওয়াচ্ছেন মেলান্দহের ওসি

সেবা ডেস্ক: মহামারির আকার ধারন করা করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনের কবলে পড়ে কর্মহীন দরিদ্র মানুষদের প্রতিদিন রান্না করা সবজিখিচুড়ি খাওয়ায়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল ইসলাম খান। গত ১ এপ্রিল শুরু করা এ খাদ্যসহায়তায় এ পর্যন্ত প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫০ জন হিসেবে গত ২২ দিনে অনন্ত তিন হাজার ৩০০ জন দ্ররিদ্র মানুষের মাঝে একবেলা করে খিচুড়ি বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ওসি।

থানা সূত্র জানায়, লকডাউনের কবলে পড়ে কর্মহীন দ্ররিদ্র প্রতিটি পরিবারে খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে। সরকারি পর্যায়ে খাদ্য সহায়তার ত্রাণ পেতে দরিদ্র পরিবারের মানুষেরা ছুটছে খাদ্যের সন্ধানে। কেউ পাচ্ছে, আবার কেউ পাচ্ছে না। অনেকেরই রান্না করে খাবার তৈরির সামর্থও নেই। এই পরিস্থিতিতে জেলার মেলান্দহ থানার ওসি মো. রেজাউল ইসলাম খান দরিদ্র অভাবী মানুষের মুখে সামান্য হলেও প্রতিদিন রান্না করা সবজি খিচুরি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেনের সার্বিক নির্দেশনায় প্রতিদিন ১৫ কেজি চালসহ ডাল ও বিভিন্ন সবজি মিশিয়ে প্রায় ২০ কেজি পরিমাণ খিচুড়ি রান্না করা হয়। এই পরিমাণ খিচুড়ি প্রতিদিন ১২৫ থেকে ১৫০ জনের মাঝে বিতরণ করা যায়।

দরিদ্র মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে ১ এপ্রিল থেকে। খিচুড়ি রান্নার জন্য একজন বাবুর্চিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। থানা কমপ্লেক্সের ভেতরেই প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে বড় ডেকে রান্না করা হয় সবজিখিচুড়ি। মাঝে মধ্যে মাংস-খিচুড়িও রান্না করা হয়। প্রতিদিন রান্না শেষে দ্রুত প্যাকেট করা হয়। পরে গাড়িতে করে পুলিশ ফোর্স নিয়ে খিচুড়ি বিতরণের জন্য বেরিয়ে পড়েন ওসি মো. রেজাউল ইসলাম খান। কোনো নাম তালিকা নেই। বিতরণে কোনো আনুষ্ঠানিকতাও থাকে না। দরিদ্ররা পূর্ব পরিচিতও না কেউ। একটা গ্রামে গিয়ে গাড়ি থামালেই খিচুড়ির জন্য ছুটে আসেন শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের দরিদ্র মানুষেরা। সামাজিক দূরত্ব মেনে সবাইকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। দরিদ্র মানুষেরা প্রত্যেকে একটি করে খাবারের প্যাকেট নিয়ে যায় খুশি মনে। কোন কোন দিন থানার সামনেই খিচুড়ি বিতরণ করা হয়।

২২ এপ্রিল দুপুর ১টার দিকে ১৫০ প্যাকেট সবজিখিচুড়ি বিতরণ করা হয় থানার সামনের রাস্তায়। মুহূর্তের মধ্যে দরিদ্র নারী, পুরুষ ও শিশুরা এক এক করে প্রত্যেকে একটি করে খিচুড়ির প্যাকেট নিয়ে যায়।

রান্না করা সবজিখিচুড়ির উদ্যোগ প্রসঙ্গে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল ইসলাম খান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘লকডাউনে পড়ে অনেক দিনমজুর বা খেটে খাওয়া দরিদ্র ও অভাবী মানুষ অনাহারে আছেন। তাদের জন্যই সামান্য এই একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। আমাদের এসপি স্যারের নির্দেশে গত ১ এপ্রিল থেকে সবজিখিচুড়ি বিতরণ করে আসছি প্রতিদিন। একেক দিন একেক স্থানে গিয়ে কর্মহীন দরিদ্রদের মাঝে বিরতণ করে থাকি।’

ওসি আরো বলেন, ‘যখন খাবার নিয়ে তাদের কাছে যাই। তখন বোঝা যায় অনেক মানুষ অনাহারে আছে। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে দরিদ্রদের মাঝে সামান্য হলেও এই এক বেলা খিচুড়ি পেয়ে তারা খুব খুশি হয়। এই সঙ্কটের সময়ে সমাজের সামর্থ্যবান ধনী ব্যক্তিরা যদি যার যার এলাকায় এভাবে রান্না করা খিচুড়ি বা ডাল-ভাত খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন, তাহলে দরিদ্র মানুষেরা আর অনাহারে থাকবে না।’ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দরিদ্রদের জন্য মেলান্দহ থানার পক্ষ থেকে খাদ্যসহায়তার এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ওসি।

ভিডিও নিউজ


-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন


ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top