
সেবা ডেস্ক: আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশ সরকার ৩২ লাখ ১০ হাজার টন ধান, চাল ও গম সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে ধান ও চাল কিনবে ২৫ লাখ ৬০ হাজার টন। আর গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৫০ হাজার টন। এসব খাদ্যশস্য সংগ্রহে ব্যয় হবে ১৩ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা। আর বিতরণ করবে ৩১ লাখ ৩৭ হাজার টন। আগামী অর্থবছরে সরকারের খাদ্য বাজেটের পরিকল্পনা এভাবেই সাজানো হয়েছে।
বাজেটের সংক্ষিপ্তসারে প্রকাশিত খাদ্য হিসাবের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে এ দুটি খাদ্যশস্য সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল ৩১ লাখ ১৬ হাজার টন। তবে সংশোধিত বাজেটে তা পরিবর্তন করে ২৭ লাখ ৭২ হাজার টনে নামিয়ে আনা হয়। ব্যয় ধরা হয় ১২ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে কমিয়ে ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটের চেয়ে আগামী অর্থবছরে চাল ও গম সংগ্রহ বাড়বে ৪ লাখ ৩৮ হাজার টন এবং ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ২০ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, করোনা দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য ধান, চাল ও গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে, যাতে চাহিদামতো বিতরণ করা সম্ভব হয়। আগামী অর্থবছরের বাজেটে যে পরিমাণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ, বিতরণ ও মজুদের প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে চাহিদা মিটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পরেও অতিরিক্ত প্রয়োজন হলে সংশোধিত বাজেটে আরও বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেটের বাইরেও ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ অনেক মন্ত্রণালয়ের চাল-গম সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রম রয়েছে।
বাজেট পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে ২৪ লাখ ৪২ হাজার টন চাল ও ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন গম বিতরণ হবে। চলতি অর্থবছরে বাজেটে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০ লাখ ৫৬ হাজার টন। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ২৭ লাখ ২৯ হাজার টন করা হয়।
জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে কম দামে খোলাবাজারে চাল বিক্রি বা ওএমএসের আওতা বাড়ানো হবে। এ জন্য পর্যাপ্ত মজুদের পরিকল্পনা নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। রাশিয়া থেকে সরকারিভাবে (জিটুজি) ২ লাখ টন গম আমদানি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের চেয়ে বেশি গম আমদানি করা হয়। তবে চালের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে বেশি সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া সরকারের নিজস্ব তহবিল ব্যয় করে সরাসরি আমদানি করা হবে। আবার বৈদেশিক সহায়তার মাধ্যমে আমদানি করা হবে।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে বলা হয়, চালের মজুদ বাড়াতে সরকার আমন ফসল থেকে ৭ লাখ ৯৮ হাজার টন সংগ্রহ করেছে। চলতি বোরো মৌসুমে ৮ লাখ টন ধান ও ১১ লাখ ৫০ হাজার টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সব ব্যবস্থা নেবে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে দুস্থদের খাদ্য সহায়তা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও খোলাবাজারে চাল বিক্রি অব্যাহত আছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার খাদ্য সংরক্ষণের ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
বাজেট বক্তব্যে আরও বলা হয়, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়ে আসায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশে বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী ওএমএসের মাধ্যমে অতিরিক্ত চাল বিক্রি হচ্ছে। গত এপ্রিলের শুরুতে ওএমএস চালের বিক্রি মূল্য ৩০ টাকা থেকে কমিয়ে ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। চাল ছাড়াও অন্যান্য খাদ্যপণ্য, বিশেষ করে শিশুখাদ্য কিনে দরিদ্রদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতে সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে পর্যাপ্ত চাল-গম মজুদ থাকায় দুর্যোগকালীন বিতরণ করায় মানুষ অনাহারে থাকেনি, এটা সরকারের সাফল্য। এ সাফল্য ধরে রাখতে আগামী অর্থবছরে স্বাভাবিকের তুলনায় আরও দুই লাখ টন ধান ও চাল অতিরিক্ত কিনবে সরকার।

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।