সেবা ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি ফয়সাল ও আলমগীরকে ভারতের বনগাঁ থেকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সঙ্গী আলমগীরকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আটক করা হয়েছে।
আজ রবিবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ওই বিবৃতিতে জানানো হয় যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসটিএফ জানতে পারে, চাঁদাবাজি এবং হত্যাযজ্ঞের মতো ভয়ংকর অপরাধ ঘটিয়ে বাংলাদেশ থেকে দুজন ব্যক্তি সীমান্ত পেরিয়ে বেআইনিভাবে ভারতে ঢুকেছে। তারা বনগাঁর সীমান্তবর্তী অঞ্চলে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করছিল এবং সুযোগ বুঝে আবারো নিজ দেশে পালানোর পরিকল্পনা করছিল বলে পুলিশ গোপন সংবাদ পেয়েছিল।
প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ৭ মার্চ দিবাগত রাতে এবং ৮ মার্চের প্রথম প্রহরে বনগাঁ অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করে এসটিএফ তাদের হেফাজতে নেয়। আটককৃতদের মধ্যে ৩৭ বছর বয়সী রাহুল প্রকাশ ফয়সাল করিম মাসুদের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায় এবং ৩৪ বছর বয়সী আলমগীর হোসেনের বসবাস ঢাকায়।
আটকের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই দুই আসামি স্বীকার করেছে যে তারা বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংগঠক ওসমান হাদিকে হত্যার সাথে যুক্ত। খুনের ঘটনার পরপরই তারা গা ঢাকা দেয় এবং মেঘালয় রাজ্যের সীমানা ব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে।
এরপর তারা ভারতের নানা জায়গায় আত্মগোপনে থাকার পর পরিশেষে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয় এসে পৌঁছায় এবং সেখান থেকেই পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশের ছক কষছিল।
অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অন্যান্য অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে অভিযুক্ত দুজনকে স্থানীয় আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিনের জন্য পুলিশি রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বরের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ পেয়েছিল যে চলন্ত রিকশায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পর হামলাকারীরা ময়মনসিংহের সীমান্ত পথ ধরে ভারতে পালিয়েছে। রবিবার যমুনা টিভির ময়মনসিংহ প্রতিনিধি হোসাইন শাহিদ নির্ভরযোগ্য সূত্রের সাহায্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
ওই সাংবাদিক জানান যে ফয়সাল এবং আলমগীর নামের এই দুই বন্দুকধারী শুক্রবার ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে করে দেশত্যাগ করে। হত্যাকাণ্ডের অব্যবহিত পরেই তারা একটি প্রাইভেট কার নিয়ে মিরপুর থেকে যাত্রা শুরু করে আশুলিয়া ও গাজীপুর পার হয়ে ময়মনসিংহে প্রবেশ করে এবং সেখানে পৌঁছে নিজেদের ব্যবহৃত গাড়িটি পরিবর্তন করে নেয়।
তিনি আরো উল্লেখ করেন যে পরিবর্তিত গাড়িতে করে তারা স্থানীয় ধারাবাজারের একটি জ্বালানি পাম্পে যায় এবং সেখান থেকে এলাকার এক বাসিন্দার সহায়তায় মোটরসাইকেলে চড়ে ভুটিয়াপাড়া সীমান্তে পৌঁছায়। পুলিশ এখনো সেই স্থানীয় সহায়তাকারীকে ধরতে সক্ষম হয়নি। তবে সীমান্ত অঞ্চলে সন্দেহভাজন হিসেবে থাকা অন্য দুজনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করেছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরো তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে।
সাংবাদিকের দেওয়া তথ্যমতে, ওই আসামিদের সীমান্ত পার করিয়ে ভারতীয় অংশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ওপারে অন্য এক ব্যক্তি তাদের গ্রহণ করার জন্য অপেক্ষায় ছিল।
সূত্র: /সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশ্যে আপোষহীন
জাতীয়- নিয়ে আরও পড়ুন







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।