![]() |
| মুসলিম দেশগুলোকে নিয়ে সামরিক জোট গঠনের প্রস্তাব দিল ইরান।। ছবি: সংগৃহিত |
মুসলিম দেশগুলোকে নিয়ে সামরিক জোট গঠনের ডাক ইরানের: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে বর্জনের প্রস্তাব
মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বহিরাগত শক্তির প্রভাব রুখতে মুসলিম দেশগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী ‘নিরাপত্তা ও সামরিক জোট’ গঠনের ডাক দিয়েছে ইরান।
বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি এক ভিডিও বার্তায় এই প্রস্তাব পেশ করেন। আরব ও ইসলামি বিশ্বের প্রতি দেওয়া এই বিশেষ বার্তায় তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই জোটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কোনো স্থান থাকবে না।
জোলফাগারি বলেন, বর্তমানে আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য এমন একটি নিরাপত্তা জোট গঠনের সময় এসেছে যা বাইরের কোনো শক্তির ওপর নির্ভরশীল হবে না।
ইরানের পক্ষ থেকে এই আহ্বান এমন এক সময়ে এলো যখন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চরম রূপ নিয়েছে। জোলফাগারি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই মার্কিন ও ইসরাইলি অভিযানকে একটি ‘নতুন পর্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি দাবি করেন যে, ইরান বর্তমানে পুরো ইসলামি উম্মাহকে রক্ষার অগ্রভাগে থেকে লড়াই করছে। তাঁর মতে, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সুদূর কোনো পশ্চিমা জাতির সাহায্যের প্রয়োজন নেই, বরং মুসলিম দেশগুলোর নিজেদের ঐক্যই যথেষ্ট।
ভিডিও বার্তায় জোলফাগারি কোরআনের শিক্ষার দিকে ফিরে আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, ইসলাম এবং পবিত্র কোরআনকে ভিত্তি ও মূল রেফারেন্স হিসেবে ধরে একটি সম্মিলিত নিরাপত্তা সনদের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে তিনি নিরাপত্তার প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে অভিহিত করেন।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান দাবি করে আসছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি সেনাদের উপস্থিতি এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
ইরান ইতোমধ্যে ইসরাইল এবং মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে অসংখ্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তেহরানের এই নতুন সামরিক জোটের প্রস্তাবটি মূলত মুসলিম দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের বলয় থেকে বের করে এনে নিজেদের একটি প্রতিরক্ষা বলয় তৈরির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
তবে ইরানের এই আহবানে অন্য মুসলিম দেশগুলো বিশেষ করে সৌদি আরব বা জর্ডান কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।