![]() |
| ঈদের দিনেই ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫ স্থাপনায় ইরানের ‘উপহার’: বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।। ছবি: বিবিসি-EPA-EFE/REX/Shutterstock |
ঈদের দিনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধশতাধিক স্থাপনায় ইরানের হামলা: ‘ভিন্ন এক ভোরের’ বার্তা
পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ফারসি নববর্ষ 'নওরোজ'-এর উৎসবের দিনেও মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র শান্ত নেই। আজ শনিবার (২১ মার্চ) এই দ্বৈত উৎসবের সকালেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫টিরও বেশি সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একে তাদের চলমান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৭০তম ধাপ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তিতে এই হামলা মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি ‘নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার ভিন্ন এক ভোরের’ প্রতিফলন। এবারের অভিযানে ‘কিয়াম’ ও ‘এমাদ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাশাপাশি ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের আল-খারজ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা, কুয়েতের আলী আল-সালেম, ইরাকি কুর্দিস্তানের ইরবিল এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর। হামলার পর এসব এলাকায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও আগুনের লেলিহান শিখা দেখা গেছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
অধিকৃত অঞ্চলে শত্রুকে চমকে দেওয়া হামলা:
আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স জানিয়েছে, তাদের এই অভিযান মূলত ইসরায়েলের হাইফা বন্দর এবং তেল আবিব শহরের কৌশলগত অঞ্চলগুলোতে কেন্দ্রীভূত ছিল। বিশেষ করে হাদেরা, কিরিয়াত ওনো, সাভিয়ন এবং বেন আমি অঞ্চলে ‘খোররামশাহ-৪’ এবং বহুমুখী ওয়ারহেড সমৃদ্ধ ‘কদর’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হানা হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, এই হামলা জায়নবাদী শত্রুর অনুমানের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলেছে এবং অধিকৃত অঞ্চলের পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটিয়েছে।
তীব্রতর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি:
বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এটি তাদের ‘ক্রমিক ক্ষয়সাধন’ কৌশলের একটি অংশ মাত্র। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের উৎসকে আগের চেয়েও ভয়াবহ হামলার মাধ্যমে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। সংঘাতের এই পর্যায়ের জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও বিবৃতিতে জোর দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসের শেষ দিকে তেহরানের ওপর তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের অবৈধ হামলার পরপরই ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ শুরু করে ইরান। এরপর থেকে কাতার, জর্ডান ও বাহরাইনসহ পুরো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের বিয়ার শেভা ও নেগেভ মরুভূমির কৌশলগত স্থাপনাগুলো নিরবচ্ছিন্ন হামলার শিকার হচ্ছে।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।