ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সংকটের আভাস
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা আজ সোমবার তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পাল্টাপাল্টি হিসেবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই আকাশপথের আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামূলক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্যটি অস্বীকার করেছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, চলমান এই যুদ্ধে তারা এ পর্যন্ত ৫৪টি ধাপে ইসরায়েল ও মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। গত কয়েক দিনে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের সংঘাতের সময় বিপুল পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের ফলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আগে থেকেই কিছুটা নড়বড়ে ছিল। বর্তমানে ইরানের টানা বর্ষণ ইসরায়েলের দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করেছে। যদিও ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার ইন্টারসেপ্টরের মজুত ফুরিয়ে আসার খবরটি নাকচ করে দিয়ে একে গুজব বলে অভিহিত করেছেন।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ বা গুচ্ছ বোমা যুক্ত করেছে, যা ধ্বংস করা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। এটি ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত নিঃশেষ করে দিচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফোর জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এই সংকটের বিষয়টি আগেই আঁচ করতে পেরেছিল। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতে কোনো সংকট নেই এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ঘাঁটি ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রয়েছে। যদিও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ শুরু হলে মার্কিন মজুতও চাপের মুখে পড়তে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন।
এদিকে ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে নতুন করে অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করবে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধাস্ত্রের ‘অসীম’ মজুত রয়েছে, যদিও এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সিএসআইএসের তথ্যমতে, এর আগে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের এক লড়াইয়েই যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ব্যয় করেছিল। চলমান যুদ্ধের শুরুতেই ওয়াশিংটন প্রায় ২৪০ কোটি ডলার মূল্যের ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা যে বর্তমানে প্রবল চাপের মুখে রয়েছে, তা দেশটির অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে সামরিক সরঞ্জাম কিনতে ৮২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের একটি বিশেষ বাজেট বরাদ্দ অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এই বিশাল অর্থ মূলত ‘নিরাপত্তা সরঞ্জাম ক্রয়’ এবং যুদ্ধের ‘জরুরি প্রয়োজন’ মেটাতে ব্যয় করা হবে। একদিকে ইরানের আকাশপথের ক্রমাগত হানা এবং অন্যদিকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতি—সব মিলিয়ে ইসরায়েল এখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।