সেবা ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও কূটনৈতিক মেরুকরণ চরম আকার ধারণ করেছে।
![]() |
| মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে বৈশ্বিক সংকট: ইরানের প্রতিরোধ, নেতানিয়াহুর আইনি জটিলতা ও তেলের বাজারে অস্থিরতা।। ছবি: এআই |
ইরান নীতিতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর চ্যালেঞ্জ এবং মোজতবা খামেনির উত্থান
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যে আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছেন, তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন বিমান হামলা এবং আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে ওয়াশিংটন দেশটিতে যে গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন দেখেছিল, বাস্তবে তার ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক আগ্রাসন ইরানিদের বিপ্লবী চেতনাকে দুর্বল করার বদলে বরং আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
মার্কিন হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই নিহত খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
ছাপ্পান্ন বছর বয়সী মোজতবার সাথে রেভল্যুশনারি গার্ড বা আইআরজিসির অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
যেখানে প্রয়াত খামেনিকে একজন বাস্তববাদী নেতা হিসেবে গণ্য করা হতো, সেখানে মোজতবাকে কট্টর বিপ্লবী আদর্শের একজন আপসহীন ধারক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে গত দশ দিনের বেশি সময় ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখে এবং তেল-গ্যাস উত্তোলনে বাধা দিয়ে ইরান বিশ্বব্যাপী এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতিদিন দুই কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকাটা ১৯৭৩ সালের ঐতিহাসিক তেল সংকটের চেয়েও বেশি মারাত্মক।
এর ফলে ট্রাম্পের মিত্র দেশগুলো ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ভেবেছিল হামলার মাধ্যমে ইরানকে পঙ্গু করে দেওয়া যাবে। কিন্তু তেহরান প্রমাণ করেছে যে তারা বড় ধরনের আঘাত সহ্য করার পাশাপাশি ভয়ংকর পাল্টা আঘাত হানতেও সক্ষম।
কাতারে স্থাপিত অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়া এবং রিয়াদ, দুবাই ও দোহায় ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনা প্রমাণ করে যে তেহরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনো অটুট রয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সরকারের কট্টর সমালোচক বুদ্ধিজীবীরাও এখন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একজোট হয়েছেন।
দার্শনিক আবদোলকারিম সোরোশের মতো প্রখ্যাত ব্যক্তিরাও এখন নিরপেক্ষ থাকাকে বেইমানি হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। ইরানিদের এই জাতীয় ঐক্য ট্রাম্পের সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনাকে বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
![]() |
| ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু |
নেতানিয়াহুকে ক্ষমা না করার পক্ষে ইসরায়েলের বিচার মন্ত্রণালয়
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুধু গণহত্যা বা যুদ্ধাপরাধেই অভিযুক্ত নন, নিজ দেশে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের মামলাও চলমান রয়েছে। এসব মামলা থেকে রেহাই পেতে তিনি ক্ষমার আবেদন করলেও তা সহজে পূরণ হচ্ছে না। ইসরায়েলের বিচার মন্ত্রণালয়ের ক্ষমা বিভাগ নেতানিয়াহুকে মামলা থেকে নিষ্কৃতি দেওয়ার পক্ষে কোনো সুপারিশ করছে না। তাদের মতে, দুর্নীতির মামলাগুলো থেকে মুক্তি পেতে নেতানিয়াহু প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
হিব্রু সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিচার মন্ত্রণালয় নেতানিয়াহুর আবেদনের ওপর আইনি অবস্থানপত্র তৈরি করে তা ঐতিহ্য বিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই এলিয়াহুর কাছে হস্তান্তর করেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকলেও ফাইলটি পাঠানোর আগে মন্ত্রীরা সেটি পর্যালোচনা করছেন।
২০২০ সাল থেকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও জালিয়াতির অভিযোগে বিচার চলছে। ক্ষমা বিভাগ জানিয়েছে, বিচার কাজ শেষ না হওয়ায় এবং তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় তাকে এই পর্যায়ে ক্ষমা করা অত্যন্ত কঠিন।
তাছাড়া তিনি অপরাধ স্বীকার বা কোনো অনুশোচনাও প্রকাশ করেননি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করার জন্য প্রেসিডেন্ট হারজগের ওপর চাপ প্রয়োগ করলেও হারজগ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
![]() |
| ক্ষেপনাস্ত্রের পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছেন ইরানি দুই নারী |
রোমানিয়ায় মার্কিন ঘাঁটির অনুমোদন এবং ইরানের হুঁশিয়ারি
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে ইরানের ওপর যে অসম যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে এবং শীর্ষ নেতাদের হত্যা করেছে, তার কঠোর জবাব দিয়ে যাচ্ছে তেহরান। প্রতিশোধ হিসেবে তারা সরাসরি ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।
এর আগে ইসরায়েলকে সহায়তার অভিযোগে সাইপ্রাসে হামলার খবর এলেও ইরান তা অস্বীকার করে এবং পরে হিজবুল্লাহ সেই হামলার দায় স্বীকার করে। তবে এবার ইউরোপের দেশ রোমানিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলার উদ্দেশ্যে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিতে যাচ্ছে।
এর ফলে দেশটি এখন সরাসরি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুশোর দান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, এই সংঘাতের সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে পারবে।
আমেরিকার জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, নজরদারি সরঞ্জাম এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলো রোমানিয়ার ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি পাবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রটির শীর্ষ প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের বৈঠকে এই অনুরোধ অনুমোদন পেয়েছে এবং আজই দেশটির পার্লামেন্টেও এর চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়া হচ্ছে।
![]() |
| মার্কিন সেনা |
ইরানে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান প্রশাসন যেকোনো সময় ইরানে আমেরিকান পদাতিক বা স্থলসেনা পাঠাতে পারে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটররা তেহরানের প্রতি রাশিয়া এবং চীনের গোপন সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরে এই সংঘাতের মানবিক ক্ষয়ক্ষতি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একটি গোপন ব্রিফিংয়ের পর সিনেটর জিন শাহীন মন্তব্য করেছেন যে, ডেমোক্র্যাটরা এই যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে চরম চিন্তিত।
তিনি জানান, রাশিয়া ইতোমধ্যেই ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে এবং রাশিয়া, চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার এই অশুভ অক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ঝুঁকি।
সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সামরিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পথে এগোচ্ছে যা শেষ পর্যন্ত ইরানে সেনা পাঠাতে বাধ্য করবে।
আইনপ্রণেতারা এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয় এবং মার্কিন সেনাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিস্তারিত জানানোর দাবি তুলেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে আরও অন্তত পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত তহবিল চাইতে পারে।
![]() |
| ৪০ দেশ থেকে ঘুরপথে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছে ভারত |
জ্বালানি আমদানির বিকল্প পথ খুঁজছে ভারত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বাস দিয়েছে দেশটির সরকার।
নয়াদিল্লি এখন প্রায় চল্লিশটি ভিন্ন দেশ থেকে সম্পূর্ণ ঘুরপথে জ্বালানি আমদানি করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানিয়েছেন, বর্তমানের বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে সরকার আগে থেকেই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে রেখেছিল।
ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর থেকেই ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে ভারত এখন বহুমুখী উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করছে।
বর্তমানে ভারতের মোট চাহিদার প্রায় ষাট শতাংশ জ্বালানি তেলই বিভিন্ন বিকল্প সামুদ্রিক রুটে আমদানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়ার সাথেও ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে।
![]() |
| স্পেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ |
ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে স্পেন
ইরানের ওপর চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক হামলার কঠোর বিরোধিতা করে ইউরোপের দেশ স্পেন ইসরায়েল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে স্থায়ীভাবে ফিরিয়ে এনেছে।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানিয়ে স্পেন যখন ইসরায়েলগামী অস্ত্রবাহী জাহাজ স্পেনের বন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়, তখন থেকেই দুই দেশের বিবাদের সূত্রপাত হয়।
স্পেনের সরকারি গেজেটে ইসরায়েলে নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূতের পদের আনুষ্ঠানিক অবসানের ঘোষণাটি প্রকাশ করা হয়েছে।
স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেল আবিবে তাদের দূতাবাসটি আপাতত কোনো রাষ্ট্রদূত ছাড়াই শুধুমাত্র একজন অস্থায়ী প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর হামলা শুরু হওয়ার পর দুই দেশের এই কূটনৈতিক উত্তেজনা চরম রূপ ধারণ করেছে এবং স্পেনের এমন সিদ্ধান্তে ইসরায়েল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
![]() |
| জ্বালানি তেল সংকট |
বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে ব্যাপক উত্থান-পতন
সমগ্র বিশ্বের তেল বাজার বর্তমানে এক চরম অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য মারাত্মক বিঘ্ন ঘটার অনিশ্চয়তার কারণে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে ওঠানামা করছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একধাক্কায় সতেরো শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি আশি ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।
কিন্তু মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় একটি তেল ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার গুজবে দাম লাফিয়ে নব্বই ডলারে পৌঁছায়। পরে হোয়াইট হাউস জানায় ওই জলপথটি এখনো সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তাদের বড় মজুদ থেকে তেল ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তেলের দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক করেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো স্থানীয় বাজারে তেলের দামের সীমা নির্ধারণ এবং রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাতের সময়কাল নিয়ে পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করায় তেল বাজারে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।
সূত্র: /সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশ্যে আপোষহীন
বিশ্ব- নিয়ে আরও পড়ুন













খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।