সেবা ডেস্ক: ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে হাইপারসনিকসহ নানা ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। পাশাপাশি লেবানন থেকেও ইসরায়েলে রকেট হামলা হয়েছে।
![]() |
| ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হাইপারসনিক মিসাইল হামলা, লেবানন থেকেও রকেট নিক্ষেপ |
সাম্প্রতিক আক্রমণের অংশ হিসেবে তেহরান হাইপারসনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি আরও তিন ধরনের মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। চৌত্রিশতম বারের মতো পরিচালিত এই সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল ইসরায়েলি ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিকে।
আইআরজিসি বা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের একটি ঘোষণার সূত্র ধরে দেশটির রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট গণমাধ্যম মেহর নিউজ এই তথ্যটি প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ইসরায়েল ও আমেরিকার স্থাপনাগুলোতে আইআরজিসি তাদের নতুন দফার এই আক্রমণ পরিচালনা করেছে, যেখানে শব্দের চেয়ে কয়েকগুণ দ্রুতগামী হাইপারসনিক মিসাইলসহ বিভিন্ন পাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
এবারের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি সংলগ্ন আল-ধাফরা এয়ারবেস এবং বাহরাইনের জুফায়ার অঞ্চলে মোতায়েনকৃত মার্কিন সৈন্যদের টার্গেট করা হয়েছে, এর সাথে সাথে ইসরায়েলের হাইফা শহরের সাধারণ বিমানবন্দর ও রামাত ডেভিড সামরিক বিমান ঘাঁটিতেও আঘাত হানা হয়েছে। প্রকাশিত ওই বার্তায় আরো দাবি করা হয় যে, তেল আবিব শহরের পূর্ব দিকে লুকিয়ে রাখা ইসরায়েলি মিসাইল নিক্ষেপ কেন্দ্রগুলোকে ইরানি রকেটগুলো সফলভাবে ধ্বংস করতে পেরেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনীও নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের দিক থেকে তাদের দেশের সীমানা লক্ষ্য করে মিসাইল ছুটে আসছে। তেহরানের পক্ষ থেকে হাইপারসনিকসহ অন্যান্য মিসাইল ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার ঠিক পরপরই তেল আবিবের সামরিক সদর দপ্তর থেকে এই হামলার বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়। ইসরায়েলি সেনারা জানিয়েছে যে, তারা আকাশপথে ধেয়ে আসা ইরানি প্রজেক্টাইলগুলো রাডারে ধরতে পেরেছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স সেগুলোকে মাঝপথেই ধ্বংস করার জন্য সক্রিয় রয়েছে।
ইতিমধ্যে ইসরায়েলের বেইত শেমেশ নামক অঞ্চলে মিসাইল বিস্ফোরিত হওয়ার সংবাদ গণমাধ্যমে এসেছে, তবে সেখান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মানুষের মৃত্যু বা আহত হওয়ার তথ্য মেলেনি। সেনাবাহিনীর তরফ থেকে মিসাইল ধেয়ে আসার সতর্কবার্তা দেওয়ার অল্প সময়ের মাঝেই স্থানীয় বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বেইত শেমেশ শহরের ঠিক মাঝখানে রকেট পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। জনপ্রিয় পত্রিকা টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ওই নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছেছে, যদিও এখনো পর্যন্ত কারো ক্ষয়ক্ষতির পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যায়নি।
এদিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র লেবানন থেকে নিক্ষেপ করা রকেটের আঘাতে বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি নাগরিক জখম হয়েছেন, কারণ আজ মঙ্গলবার লেবানন থেকে আসা একাধিক রকেট ইসরায়েলের ঠিক কেন্দ্রভাগে আছড়ে পড়ে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ জানায়, আকাশসীমায় ঢোকা বেশিরভাগ রকেট আটকে দেওয়া গেলেও দুটি অস্ত্র মাটিতে আঘাত করতে সক্ষম হয় এবং সেসময় ওই নির্দিষ্ট জায়গাগুলোতে বিপদসংকেত বাজানোর মতো যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়নি।
দেশটির বিমান বাহিনী ও হোম ফ্রন্ট কমান্ডের মিলিত প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, রাডারে রকেটগুলো ধরা পড়লেও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে সেগুলোকে ঠিক সময়ে আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভবপর হয়নি। স্মরণ করা যেতে পারে যে, গত ২ মার্চ তারিখ থেকে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের সীমানায় আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে এবং এর চরম প্রতিশোধ হিসেবে লেবানন ভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ প্রতিনিয়ত ইসরায়েলি স্থাপনাগুলোতে মিসাইল বৃষ্টি চালিয়ে যাচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই সামগ্রিক চিত্রটি পাওয়া গেছে।
সূত্র: /সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশ্যে আপোষহীন
বিশ্ব- নিয়ে আরও পড়ুন







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।