সেবা ডেস্ক: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রথম টেলিভিশন ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে এবং মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চলবে।
![]() |
| প্রথম ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে মোজতবা খামেনির চরম হুঁশিয়ারি, হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা |
মোজতবা খামেনির প্রথম ভাষণ ও চরম হুঁশিয়ারি
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। আজ ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার দেওয়া ওই ভাষণে তিনি গণহত্যা পরিচালনাকারী রাষ্ট্র ইসরায়েল এবং তাদের প্রধান সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তেহরান কোনো অবস্থাতেই তাদের এই লড়াই থামাবে না এবং দেশের জন্য জীবন দেওয়া প্রতিটি শহীদের রক্তের চরম প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
সামরিক বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
ভাষণের এক পর্যায়ে দেশের সামরিক বাহিনীর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান ইরানের এই নতুন সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, বিদেশি শত্রুরা যখন মাতৃভূমির ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ চালিয়েছে, ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে এই সশস্ত্র বাহিনীই দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল এবং ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছে। চরম বৈশ্বিক চাপ এবং লাগাতার বোমাবর্ষণের মধ্যেও যে সাহসী যোদ্ধারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে দুর্দান্ত সাহসিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের অসীম বীরত্বের প্রতি তিনি বিশেষ সাধুবাদ জানান।
জাতীয় ঐক্যের ডাক ও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা
টেলিভিশনে দেওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে মোজতবা খামেনি দেশের ভেতরে ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। বিশ্ব জ্বালানি বাজার নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন যে, ইরানের শত্রুদের ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধই রাখা হবে।
প্রতিবেশীদের বার্তা ও মার্কিন ঘাঁটি বন্ধের আল্টিমেটাম
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে খামেনি জানান যে, ইরান তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সবসময়ই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বিশ্বাসী। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে তাদের হামলা কিছুতেই বন্ধ হবে না। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ইরানি বাহিনীর একমাত্র লক্ষ্যবস্তু হলো আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলো। নতুন এই সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে জানিয়ে দেন যে, এই অঞ্চল জুড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত সামরিক ক্যাম্প অবিলম্বে বন্ধ করে ফেলতে হবে। আর তা না হলে ওই স্থাপনাগুলো এভাবেই লাগাতার ধ্বংসাত্মক হামলার শিকার হতে থাকবে বলে তিনি চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সূত্র: /সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশ্যে আপোষহীন
বিশ্ব- নিয়ে আরও পড়ুন







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।