ডা. আলী লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ: ইসরায়েলের ১০০ স্থাপনায় ইরানের তীব্র হামলা
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক সচিব ডা. আলী লারিজানি হত্যার কঠোর প্রতিশোধ নিতে শুরু করেছে তেহরান। গত সোমবার (১৬ মার্চ) ইসরায়েলি হামলায় লারিজানির শাহাদাতের পর বুধবার (১৮ মার্চ) উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ডের শতাধিক সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের চলমান প্রতিশোধমূলক অভিযান 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪'-এর ৬১তম ধাপে এই হামলা চালানো হয়েছে। লারিজানি হত্যার বদলা নিতে মাল্টি-ওয়ারহেড সমৃদ্ধ 'খোররামশাহর-৪', 'কদর', 'এমাদ' এবং 'খেইবার শেকান' প্রজেক্টাইল ব্যবহার করে শত্রুর হৃদপিণ্ডে আঘাত হানা হয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ইরানের এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের বহুমুখী ও উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দিয়ে ১০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হেনেছে।
মাঠ পর্যায়ের তথ্যের বরাত দিয়ে আইআরজিসি আরও জানায়, এই আকস্মিক ও তীব্র হামলার ফলে তেল আবিবে আংশিক 'ব্ল্যাকআউট' বা বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে, যা দখলদার বাহিনীর উদ্ধার তৎপরতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। প্রাথমিক তথ্যমতে, 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪'-এ এখন পর্যন্ত ২৩০ জনেরও বেশি জায়নবাদী সেনা ও কর্মকর্তা হতাহত হয়েছে।
তেল আবিব ছাড়াও পবিত্র আল-কুদস (জেরুজালেম), হাইফা বন্দর, প্রযুক্তি কেন্দ্র বিয়ের শেবা এবং নেগেভ মরুভূমির সংবেদনশীল কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান। একই সঙ্গে কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোও ইরানের এই তীব্র প্রতিশোধমূলক হামলার মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সাম্প্রতিক অবৈধ আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে তেহরান এই সর্বাত্মক পাল্টা হামলা শুরু করল, যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।