সেবা ডেস্ক: পবিত্র কোরআনের ফজিলতপূর্ণ দোয়া ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’ পাঠের গুরুত্ব এবং নবী ইব্রাহিম (আ.) ও মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনে এর তাৎপর্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
![]() |
| হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল দোয়ার তাৎপর্য |
হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল দোয়ার তাৎপর্য
কোরআনের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি জিকির হলো ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’। দৈনন্দিন জীবনের যেকোনো সময় এই পবিত্র বাক্যটি পাঠ করা যায়। বিশেষ করে যখন কোনো মানুষ অসুস্থতায় ভোগেন, মানসিক অস্থিরতায় থাকেন, কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হন কিংবা শত্রুর আক্রমণের ভয় থাকে, তখন এই দোয়াটি বেশি করে পড়ার কথা বলা হয়েছে। এই দোয়ার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো কিছু চাওয়া হয় না; বরং এর মাধ্যমে বান্দা তার সমস্ত ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়ে এই দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেন যে, মহান আল্লাহই তার জন্য সবচেয়ে উত্তম সাহায্যকারী।
নবী ইব্রাহিম (আ.) ও মহানবীর (সা.) জীবনে ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’ এর ব্যবহার
ইতিহাসের পাতা ঘাটলে দেখা যায়, হজরত ইব্রাহিম (আ.) এবং বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেদের জীবনের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তগুলোতে এই পবিত্র বাক্যটির ওপর ভরসা রাখতেন। প্রখ্যাত সাহাবি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনা মতে, স্বৈরাচারী শাসক নমরুদ যখন হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করেছিল, ঠিক সেই ভয়ংকর মুহূর্তে তিনি এই ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’ পাঠ করেছিলেন। এই অটল বিশ্বাসের পুরস্কারস্বরূপ মহান আল্লাহ সেই লেলিহান শিখাকে তাঁর নবীর জন্য সম্পূর্ণ শীতল ও আরামদায়ক করে দিয়েছিলেন।
‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’ বাংলা অর্থ ও নাজিলের প্রেক্ষাপট
পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআনের সুরা আলে ইমরানের ১৭৩ নম্বর আয়াতের একটি বিশেষ অংশ হলো এই দোয়াটি। মাতৃভাষা বাংলায় এর অর্থ দাঁড়ায়: "আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।" ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে মক্কার কুরাইশদের এক বিশাল সশস্ত্র বাহিনী যখন মুসলিমদের ওপর আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই কঠিন পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.) ও তাঁর সাহাবিরা নিজেদের ইমানি শক্তি বৃদ্ধি করতে এবং একমাত্র স্রষ্টার ওপর অগাধ নির্ভরশীলতা প্রমাণ করতে এই জিকিরটি করতেন।
হাদিসের আলোকে ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’ এর ফজিলত
বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির জন্য এই দোয়ার ফজিলত অপরিসীম। তিরমিজি শরিফের একটি হাদিসে উল্লেখ আছে যে, যেকোনো ধরনের বিপদে পতিত হলে কিংবা বিপদের আশঙ্কা দেখা দিলে রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে "হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল" পাঠ করার তাগিদ দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে মুমিনদের বিশ্বাস আরও মজবুত হয়। এছাড়াও ইসলামী শরিয়তের অন্যতম বিশুদ্ধ গ্রন্থ সহিহ বুখারি এবং মুসলিমেও এই দোয়ার অসীম গুরুত্বের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। হাদিসের ভাষ্যমতে, চরম সংকটের সময় এই বাক্যটি উচ্চারণের মাধ্যমে বান্দা সরাসরি আল্লাহর আশ্রয়ে চলে যান।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’ এর প্রাসঙ্গিকতা
আধুনিক এই যান্ত্রিক ও ডিজিটাল যুগে প্রতিনিয়ত মানুষ নানা ধরনের মানসিক চাপ, হতাশা এবং দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে জীবন পার করছেন। এমন দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে এই পবিত্র দোয়াটি পাঠ করা একজন মুমিনের জন্য মানসিক শান্তির এক বিশাল উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন ইসলামিক মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং অনলাইন ওয়েবসাইটের কল্যাণে খুব সহজেই এই দোয়াটি সম্পর্কে জানা যায়। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ, তা তিনি শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী অথবা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষই হোন না কেন, এই জিকিরের মাধ্যমে পরম করুণাময়ের সাহায্য প্রার্থনা করে অন্তরের প্রশান্তি লাভ করতে পারেন।
সূত্র: /সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশ্যে আপোষহীন
ধর্ম- নিয়ে আরও পড়ুন







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।