প্রতিবাদের শক্তি যখন উগ্রতা: তারুণ্যের অবক্ষয় রোধে চাই নতুন সামাজিক অঙ্গীকার
বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে তরুণ সমাজ, যাদের হাতেই ন্যস্ত দেশের ভবিষ্যৎ। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সময়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তরুণদের একাংশের আচরণ ও মূল্যবোধ নিয়ে সমাজ বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার বুলিং, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে প্রকাশ্যে বিদ্রুপ করার মতো ঘটনাগুলো উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। যা অনেক সময় নিছক কৌতুক হিসেবে শুরু হলেও ভুক্তভোগীর ওপর দীর্ঘমেয়াদী মানসিক আঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুতগতির তথ্যপ্রবাহ এবং রিয়েকশনধর্মী সংস্কৃতির কারণে তরুণদের মধ্যে এক ধরনের আক্রমণাত্মক মনোভাব তৈরি হচ্ছে। শিক্ষক ও প্রবীণদের প্রতি অসম্মান, অনলাইন ট্রলিং এবং নারীদের প্রতি হয়রানির মতো ঘটনাগুলো এখন অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিকতায় রূপ নিচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নাগরিক দায়িত্বের প্রতি উদাসীনতা এবং দুর্নীতির মতো অপরাধকে গা সওয়া হিসেবে মেনে নেওয়ার নেতিবাচক মানসিকতা। যখন একটি প্রজন্মের ব্যক্তিগত ও নৈতিক মূল্যবোধ দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন অন্যের প্রতি অসম্মান বা অসদাচরণকেও তাদের কাছে বিনোদনের মাধ্যম বলে মনে হয়।
এই পরিস্থিতিতে কেবল তরুণদের ওপর দোষ চাপানো বা আইনি শাস্তির ভয় দেখিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সমাজ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ‘পজিটিভ মাইন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা ইতিবাচক মানসিক পুনর্গঠন। এর মূল লক্ষ্য হবে তরুণদের শাস্তি দেওয়া নয়, বরং তাদের সামনে ইতিবাচক পথ দেখানো। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি মূল্যবোধ ভিত্তিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো এখন সময়ের দাবি। এছাড়া শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য সহমর্মিতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং গণমাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক বার্তা প্রচারের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সমাজের জন্য বড় ঝুঁকি হলো, এই নেতিবাচক প্রবণতাগুলো যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে ভবিষ্যতে তা জাতীয় সংহতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের অবনতি শিক্ষার মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সাইবার জগতের বিশৃঙ্খলা দেশে অস্থিরতা তৈরি করবে। তাই কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি তরুণদের নৈতিক ভিত্তি শক্ত করা জরুরি। যারা সততা ও সমাজসেবার মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করেছেন, তাদের তরুণদের সামনে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে। সমাজ, পরিবার ও গণমাধ্যম যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে, তবেই একটি সচেতন ও আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে উঠবে, যারা হবে আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের কারিগর।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।