![]() |
| অর্থ পাচার মামলা: রিমান্ড শেষে কারাগারে হরিদাস, সিআইডিকে দিয়েছেন চাঞ্চল্যকর তথ্য |
অর্থ পাচার মামলা: রিমান্ড শেষে কারাগারে হরিদাস, সিআইডিকে দিয়েছেন চাঞ্চল্যকর তথ্য
হুন্ডি ও অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের অন্যতম উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে ৪ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সিআইডি জানিয়েছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দেশের বাইরে অর্থ পাচার এবং অবৈধ লেনদেনের বিষয়ে তদন্তের সহায়তায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন আসামি।
গত সোমবার (১৩ জুলাই রিমান্ড মঞ্জুরের পর) ৪ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ শুক্রবার আসামি হরিদাসকে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক কে এম রাকিবুল হুদা। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে হরিদাসকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে জমা দেওয়া সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪ দিনের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হরিদাসের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টগুলোতে কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কোথা থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা দিয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। একই সাথে সেই অর্থ কাদের কাছে এবং কীভাবে হুন্ডির মাধ্যমে ব্যয় বা হস্তান্তর করা হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি মুখ খুলেছেন। সিআইডি বর্তমানে এই তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করছে। তদন্তের স্বার্থেই আসামিকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন, অন্যথায় তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তপ্রক্রিয়া ও তথ্যপ্রমাণ নষ্টের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অবৈধ লেনদেন ও অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে মামলা করেন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম। মামলার পরপরই ওই দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালীমন্দির এলাকা থেকে হরিদাসকে গ্রেফতার করে সিআইডির একটি বিশেষ দল।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস পেশায় একজন সাধারণ ব্যবসায়ী হলেও এর আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও আন্তর্জাতিক হুন্ডি চক্রের সাথে জড়িত ছিলেন। হরিদাসের নামে থাকা ৯টি সচল ব্যাংক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি বিশ্লেষণ করে সিআইডি জানতে পেরেছে, তাঁর বৈধ ব্যবসার আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন সময়ে তাঁর হিসাবে জমা ও উত্তোলিত হয়েছে, যার কোনো বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি। এই অবৈধ অর্থ লেনদেনের সাথে আর কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটনে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।