প্রেটিয়াদের বিপক্ষেও উন্নতির ধারায় থাকতে চায় নিউজিল্যান্ড

S M Ashraful Azom
কতিপয় তারকা খেলোয়াড়ের অনুপুস্থিতি সত্ত্বেও দলগত পারফর্মেন্সের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উন্নতির ধারা ধরে রাখার ব্যাপারে প্রত্যয়ী নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিক প্রোটিয়াদের বিপক্ষে দুটি টি-২০ ও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বর্তমানে ডারবান সফরে রয়েছে কিউইরা।

সফরের প্রথম টি-২০ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী শুক্রবার ডারবানের কিংসমিডে। গত রোববার হারারেতে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৮০ রানের বিশাল জয়ের পর ফুরফুরে মেজাজে ম্যাচটি খেলতে নামবে নিউজিল্যান্ড। এ ছাড়া ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের কাছে বিস্ময়করভাবে হেরে যাবার পরও পরবর্তী দুই ম্যাচে অপেক্ষাকৃত বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতিও রয়েছে কালোটুপিধারীদের কাছে।

দীর্ঘদিন পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এসেছে নিউজিল্যান্ড। সর্বশেষ ২০১২-১৩ মৌসুমে সফরে এসে তারা স্বাগতিক দলের কাছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ওয়ানডে সিরিজে এবং জয়লাভ করেছিল।

কোচ মাইক হেসনের মতে, ওই সিরিজটি ছিল নিউজিল্যান্ডের জন্য বিপ্লব ঘটানোর মতো সিরিজ। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের কোনো সিরিজ জয়ের ইতিহাস এর আগে ছিলো না। তাছাড়া এ সময় আমাদের দলটিও ছিল খর্ব শক্তির। সুতরাং এমন অবস্থায় সিরিজ জয় করাটা ছিলো আমাদের জন্য বিশাল সফলতা। এটিই ছিলো আমাদের জন্য চমৎকার দুটি বছরের সূচনা লগ্ন। এ দুই বছরের মধ্যে আমরা বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি। টেস্টেও আমাদের দলটি সোজা উঠে গেছে র‌্যাংকিংয়ের উপরের দিকে।

দলের নেতৃত্ব থেকে রস টেইলরকে সরিয়ে দেয়ার বিতর্ক মাথায় নিয়ে ২০১২-১৩ মৌসুমে কিউই দলের কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন হেসন। কিন্তু ব্রেন্ডন ম্যাকালামের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেয়ার পর থেকে পাল্টে যায় দলটির চেহারা। সর্বশেষ ৭টি টেস্ট সিরিজে অংশ নিয়ে কিউইরা চারটিতেই জয়লাভ করেছে। ড্র করেছে বাকী তিন সিরিজে।

অপরদিকে ওয়ানডে ফর্মেটের ক্রিকেটেও ইর্ষণীয় সফলতা অর্জন করে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। সহ-আয়োজক অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তারা ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে। হেসন বলেন, একটি দলের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো নিজেদের দেশের বাইরে গিয়ে তারা কতটুকু ভাল করতে পারে সেটি। আমরা সিরিজ জয়ের মিশন শুরু করেছি এ্যাওয়ে থেকে। তাও আবার ধারাবাহিকতার মধ্যদিয়ে। এর অর্থই হচ্ছে আমরা উন্নতি করছি।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফিক্রাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল নিউজিল্যান্ড। তবে ফিরতি মোকাবেলার মাধ্যমে ওই জয়টিকে অর্থবহ করা সম্ভব হবে। ফাস্ট বোলার টিম সাউদির সঙ্গে এই সফরে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে ম্যাককালামকেও। আর ইনজুরির কারণে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন টেইলর, অল রাউন্ডার কোরি এন্ডারসন ও ট্রেন্ট বোল্ট।

অপরদিকে ব্যাটসম্যান জেপি ডুমিনি ও ফাস্ট বোলার মরনে মরকেলকে পিতৃত্বকালীন ছুটির কারণে দলে পাচ্ছে না দক্ষিণ আফ্রিকা। টি-২০ ম্যাচে মর্কেলকে পাওয়া গেলেও পুরো সিরিজেই থাকবেন না ডুমিনি। তারপরও বাংলাদেশে ব্যর্থ সফরের হতাশা কাটানোর জন্য এই সিরিজটিকেই বেঁছে নিয়েছে প্রোটিয়ারা। বাংলাদেশে স্বাগতিকদের কাছে ওডিআই সিরিজ হেরে যাবার পর বৃষ্টির খপ্পরে পড়ে টেস্ট সিরিজটিও ড্র করে দেশে ফিরেছে তারা।

এদিকে পিতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে ডুমিনি ও মর্কেল দলের বাইরে চলে গেলেও একই কারণে ছুটিতে থাকার ফলে বাংলাদেশ সফরের বাইরে থাকা তারকা ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স দলে ফিরেছেন।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top