মডেল ও অভিনেত্রী আনিকা কবির শখ। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই শোবিজ অঙ্গনে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তিনি। যদিও বিজ্ঞাপন দিয়ে দর্শকদের কাছে পরিচিত হন, তবে এখন নাটকেও জনপ্রিয় শখ।
সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে ঈদের নাটকের কাজ শেষে দেশে ফিরেছেন তিনি। মূলত, একক নাটক ও বিজ্ঞাপনেই ব্যস্ত থাকেন শখ। তবে এখন ধারাবাহিক নাটকেও করছেন তিনি। ঈদের নাটক, ধারাবাহিক ও নাটকের জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে সম্প্রতি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু।
চলতি সময়ের ব্যস্ততা?
রোজার ঈদ না যেতেই কোরবানির ঈদ চলে আসছে। তাই শুটিং শুরু করলাম আবারও পরবর্তী ঈদের নাটকের। সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে দুটি নাটকের কাজ করে এলাম। একটি টেলিফিল্ম ও একটি ৬ পর্বের ধারাবাহিক। এছাড়াও সামনে আরও ৩-৪টি নাটকের শুটিং করবো। এবার ঈদেও সিকেন্দার বক্স নাটকে অভিনয় করছি। এরইমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে।
আরও কয়েকটি নাটকের কথা চলছে। মূলত, ঈদের কাজগুলো নিয়েই এখনকার ব্যস্ততা।
মালয়েশিয়ার ভ্রমণে নিলয়ও ছিলেন, দু’জনের রসায়নটা কি আগের মতোই দর্শক দেখতে পাবেন?
আমি ও নিলয় একটি অঙ্গনে কাজ করি। তাই একসাথে কাজ করাটাই স্বাভাবিক। নিলয়ের সাথে রোজার ঈদেও বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছি। দর্শকদের ভালো সাড়া পেয়েছি। তাই রসায়নের বিষয়টি দর্শকদের ভালো লেগেছে। তাছাড়া নিলয় খুব ভালো সহশিল্পী।
ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন না?
ধারাবাহিক নাটক খুব বেশি করা হয় না আমার। তবে এখন বেশ কয়েকটি ধারাবাহিকে অভিনয় করছি। নাটকগুলো প্রচারও হচ্ছে। ‘রিলেশন’, ‘নীলার বারান্দা’ নাটকগুলো প্রচার হচ্ছে।
বরাবরই আপনাকে ধারাবাহিক নাটকে কম দেখা যায়, কারণ?
ধারাবাহিক নাটকের জন্য নিয়মিত একটা সময় লাগে। কিন্তু আমি যেহেতু অভিনয়ের পাশাপাশি নাচ, মডেলিং করি, তাই নিয়মিত সময় বের করাটা একটু কঠিন। তাছাড়া আমি ধারাবাহিক নাটকের চেয়ে একক নাটকে স্বাচ্ছন্দবোধ করি। কারণ দর্শক এখানে এক বসাতেই পুরো গল্পটা দেখতে পারেন।
আমাদের দেশের ধারাবাহিকগুলো আগের মতো আর জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না, এর কারণ কি শুধুই হিন্দি সিরিয়ালের প্রভাব?
হিন্দি সিরিয়ালের একটা প্রভাব তো আছেই। কারণ সেখান যে ধরনের গ্লামার দেখানো হয় তেমনটা আমরা দেখাতে পারি না। আর এর মূল কারণ বাজেট। আমাদের গল্প তাদের চেয়ে অনেক মানসম্মত। কিন্তু বাজেটের জন্য অনেক জায়গাতেই নির্মাতা ভালো কিছু করতে চাইলেও পারে না। আর একটি বড় সমস্যা বিজ্ঞাপন। কারণ আমাদের নাটকগুলো কিন্তু দেখছে না, তা কিন্তু না। অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের জন্য দর্শক চ্যানেল ঘুরিয়ে ফেলছে আর সেখানে আসছে না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অনেক পুরোনো। কিন্তু এ বিষয়ে চ্যানেলগুলোর কোনো পরিকল্পনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
ঈদের নাটকের জনপ্রিয়তা ও মান নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে, এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?
চ্যানেল বাড়ার সাথে সাথে প্রতিযোগিতাও বেড়ে গেছে। পাশাপাশি কমে গেছে বাজেট। যদিও ঈদের নাটকের ক্ষেত্রে বাজেট কিছুটা বাড়ানো হয়। তবে সেটা উল্লেখযোগ্য না। মানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ভালো গল্প ও ভালো বাজেট। সেটা আমাদের খুব অভাব। তবে এর মধ্য দিয়েও অনেক ভালো নাটক হচ্ছে। বিজ্ঞাপনের জন্য হয়তো টেলিভিশনে নাটক দেখতে বিরক্ত হচ্ছেন, কিন্তু ইউটিউবে সবাই দেখছেন। আমাদের নাটকের দর্শক এখন ইউটিউব বন্দি। তবে ইউটিউবে হলেও আমাদের নাটকগুলো দর্শকরা দেখছেন।
বিজ্ঞাপনের কী অবস্থা?
বিজ্ঞাপনের কাজ নিয়মিতই চলছে। শিগগিরই ‘প্রাণ’ ও ‘তিব্বত’-এর বিজ্ঞাপনগুলো প্রচার হবে। আরও কয়েকটি বিজ্ঞাপনের কথা হচ্ছে।

