আসামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। -বাসস
ধুবুরির বিলাসিপাড়ায় শনিবার ভেসে যাওয়া বিয়ে বাড়ির গাড়িটি রবিবার উদ্ধার করা হয়েছে। তার ভেতর থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার থেকে নিখোঁজ দুই বাইক আরোহীর মৃতদেহও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বছরের দ্বিতীয় এ বন্যায় এখন পর্যন্ত রাজ্যে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ। কোকড়াঝাড় ও লাখিমপুরে ২জন, বিজনি, বঙাইগাঁও, বাক্সা ও শোনিতপুরে একজন করে মারা যাওয়ার খবর এসেছে। শুধু ধুবুরি জেলাতেই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙ্গে পড়েছে। বহু স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
পুলিশ জানায়, এনডিআরএফ ও সেনাবাহিনী তল্লাশি চালিয়ে এদিন কাদায় আটকে থাকা অবস্থায় এলেংপাড়া থেকে ভেসে যাওয়া বিয়ে বাড়ির গাড়িটির সন্ধান পায়। কাদা থেকে গাড়িটি তুলে ভেতরে তিন মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। শনিবার এক কিশোরের মৃতদেহ পাওয়া যায়। এখনও ওই গাড়িতে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে ধুবুরির সাংসদ বদরউদ্দিন আজমল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কেন্দ্রের কাছে অবিলম্বে ১হাজার কোটি টাকা দাবি করেছেন। তিনি ত্রাণশিবির না খোলা ও ত্রাণ বিলিতে গাফিলতির জন্য রাজ্যের ক্ষমতাসীন কংগ্রেসকে দায়ী করেন।
রাজ্যের বন্যা মোকাবলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আর্জি জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল।
তিনি বলেন, ‘এখন রাজনীতি করার সময় নয়। সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে ত্রাণে নামতে হবে।’
রাজ্যের ১৯টি জলা এখন বন্যাকবলিত। বন্যাদুর্গতের সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়েছে। রাজ্যের ৩৭ নম্বর, ৩১ নম্বর, ১৩ নম্বর, ৫২ নম্বরসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কের বিরাট অংশ পানির তোড়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কোকরাঝাড়, চিরাং, মাজুলি, ধুবুরির বহু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আসামের রাজস্ব মন্ত্রী ভূমিধর বর্মণ ও জলসম্পদ মন্ত্রী বসন্ত দাস কোকরাঝাড়ে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
এদিকে প্রবল বর্ষণ ও ধসে মনিপুরের সঙ্গে নাগাল্যান্ডের কোহিমার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। দক্ষিণ আঙ্গামি এলাকায় ধস নেমে ২ নম্বর জাতীয় সড়কের ১০০ মিটার অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, ২৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর ফেসামা এলাকাতে ধস নেমে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। রাস্তায় আটকাপড়া একটি বাস সরানোর জন্য আনা বিআরটিএফের একটি এক্সক্যাভেটরও ধসে ভেসে গেছে। বাসটিরও একই দশা। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
অরুণাচলের লোহিত, নামসাই, কামলং, বেরেং, টেঙাপানি, লাথাও, চোংখাম, মহাদেবপুর, জেংঘটুতে বন্যা চলছে। বন্যার কারণে আলুবাড়ি ও তেজুরের যোগাযোগও বিছিন্ন হয়ে পড়েছে।

