আজ দিনাজপুরের ইয়াসমিন ট্র্যাজেডির ২০তম বার্ষিকী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস

S M Ashraful Azom
আজ ২৪ আগস্ট দিনাজপুরে পুলিশী হেফাজতে ইয়াসমিন হত্যার ২০তম বার্ষিকী। দিনটি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবেও পালন করা হয়। ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট দিনাজপুরের ১০ মাইল নামক স্থানে পুলিশী হেজাফতে ধর্ষিত ও নিহত হয় কিশোরী ইয়াসমিন। ঘটনায় আগের রাতে দিনাজপুর শহরের রামনগরের বাসিন্দা ইয়াসমিন ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওগামী কোচযোগে দশ মাইলে এসে নামে। স্থানীয় দোকানদারেরা তাকে কোতয়ালী থানার টহল গাড়িতে উঠিয়ে দেয়। এরপর অসহায় কিশোরী ওই গাড়িতে থাকা পুলিশের পাশবিক লালসার শিকার হয়। ঘন্টাখানেক পর দশ মাইল থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে ইয়াসমিনের বিবস্ত্র প্রায় মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন।
 
এই পৈশাচিক ঘটনায় উত্তাল প্রতিবাদ শুরু হয় দিনাজপুরে। ঘেরাও করা হয় কোতয়ালী থানা। ২৭ আগস্ট আহবান করা হয় গায়েবানা জানাজা। এই জানাজা অভিমুখী জনতার স্রোতে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। নিহত হয় ৭ জন নিরীহ মানুষ। এরপর বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত ফুঁসে ওঠে জনতা। তারা পুলিশের ৪টি ফাঁড়ি, ৪টি গাড়ি, স্থানীয় ৪টি দৈনিক সংবাদপত্র অফিস, প্রেসক্লাব পুড়িয়ে দেয়। ভীতসন্ত্রস্ত পুলিশ বাহিনী আশ্রয় নেয় পুলিশ লাইনে। ২৮ আগস্ট থেকে দিনাজপুরে মোতায়েন করা হয় বিডিআর। ১২ সেপ্টেম্বর তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দিনাজপুরে গেলে জনগণ তাকে কালো পতাকা প্রদর্শন করে।
 
এই ন্যক্কারজনক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে সিআইডি ১৯৯৬ সালের ১৪ মে পুলিশের এস আই মইনুল, কনস্টেবল সাত্তার, ড্রাইভার অমৃত লাল, কোতয়ালী থানার ওসি মাহাতাব উদ্দীন, এ এস আই জাহাঙ্গীর আলম, এ এস আই স্বপন চক্রবর্তী, এ এস আই মতিউর রহমান (ওসি ওয়াচ) এবং এসপি আব্দুল মোতালেবকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৬ (৪) এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ২০১/৩ ধারায় চার্জশিট দাখিল করে। পরবর্তীতে একই বছরের ৬ জুন ইয়াসমিনের লাশের প্রথম ময়না তদন্তকারী ডাক্তার মোঃ মহসীনকে আসামি করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হয়। ১২৩ দিনের শুনানি এবং ৪৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি মইনুল, সাত্তার এবং অমৃতর ফাঁসির আদেশ দিয়ে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয় ’৯৭ সালের ৩১ আগস্ট। অন্য আসামিদের খালাস দেয়া হয়। হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকে। আসামিরা সুুপ্রিম কোর্টে আপীল করলেও রায় বহাল থাকে। ২০০৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর  আসামিদের মধ্যে এস, আই মাইনুল ও কনস্টেবল সাত্তারের ফাঁসি কার্যকর হয়। পরে ড্রাইভার অমৃত লালের ফাঁসিও কার্যকর করা হয়।
 
দিনাজপুর জেলা পরিষদ ইয়াসমিনের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য দশ মাইল মোড়ে একটি স্মৃতি ভাস্কর্য স্থাপন করে এবং তার পাশে ইয়াসমিনের নামে একটি পোষ্ট অফিস ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করেছে। ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ড স্মরণে প্রতিবছর ২৪ আগস্ট বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে এ বছরও বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিভিন্ন সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, মিছিল, ইয়াসমিনের কবর জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top