এক মৌসুম বন্ধ থাকার পর নভেম্বরে মাঠে গড়াচ্ছে টি-টোয়েন্টি ধামাকা লিগ বিপিএল। আগের দুই আসরে অনেক অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে যাওয়ায় এবার নিয়মে নানা পরিবর্তন এনেছে বিপিএল গভ:র্নিং কাউন্সিল। আগে প্রত্যেকটা দল আটজন বিদেশী খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারত। এবার তা কমিয়ে করা হয়েছে সাতজন।
দল গড়তে কোনো দল সর্বোচ্চ ৪.৪ কোটি টাকা খরচ করতে পারবেন। নতুন আর্থিক নিয়মে একজন বিদেশী ক্রিকেটারের দর ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ ৫৬ লাখ টাকা। যা গত আসরগুলোর চেয়ে অনেক কম। তবে নতুন নিয়মে সবচেয়ে হতাশ হবেন দেশীয় ক্রিকেটাররা। কারণ একজন স্থানীয় ক্রিকেটারদের বাজে ধরা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। যা গত দুই আসরের চেয়ে ক’য়েকগুণ কম।
নতুন এ নিয়মে সম্ভাব্য ফ্রাঞ্চাইজিগুলো খুশি হলেও কিছুটা হতাশ দেশীয় ক্রিকেটাররা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন তারকা ক্রিকেটার এ প্রতিবেদককে বলেন,‘ আমরা খুশি যে বিপিএল আবার মাঠে গড়াচ্ছে। আগামী বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে এ টুর্নামেন্ট আমাদের প্রস্তুতিতে দারুণ কাজ দেবে। কিন্তু দেশী ও বিদেশী খেলোয়াড়দের মধ্যে যে আর্থিক বৈষম্য দেখা দেবে এটা ঠিক নয়। সাকিবের উদাহরণ দেওয়া যাক। তিনি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। অথচ তাকে খেলতে হবে একজন সাধারণ মানের বিদেশী খেলোয়াড়ের কম পারিশ্রমিকে।’
কেন এমন বৈষম্যের নিয়ম? বিপিএল গভঃর্নিং কমিটির সচিব ইসমাঈল হায়দার মল্লিক ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে,‘ আমরা বিদেশী ক্রিকেটারদের বাজেট ধরেছিলাম ৫০ হাজার ডলার। কিন্তু বিসিবি সেটা বাড়িয়ে ৭০ হাজার ডলার করেছে। আমি মনে করি এটা সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ ৩০বা ৫০ হাজার ডলার দিয়ে তো ক্রিস গেইলকে পাওয়া যাবে না। লিগ জঁমজমাট করতে ভালো মানের বিদেশী খেলোয়াড়ও তো দরকার।’
দুই আসরের পর গত বছর নানা কারণে বাতিল হয়ে যায় বিপিএলের তৃতীয় আসর। অর্থ কেলেঙ্কারি, ম্যাচ ফিক্সিংসহ আরো কিছু কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয় দেশের জনপ্রিয় এ ধামাকা ক্রিকেট লিগ। কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়ে খেলোয়াড় কিনলেও তাদের টাকা পরিধোশ করেনি দলগুলো।
এবার নতুন করে ফ্রাঞ্চাইজির জন্য টেন্ডার আহবান করেছে বিসিবি। সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে দলগুলো। এবার ম্যাচগুলো হতে পারে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে।
