কঠিন বাস্তবের সামনে আল-আমিন, রবিউল

Seba Hot News
মুস্তাফিজ, মাশরাফি, রুবেল, তাসকিন-এই চার পেসারকে হটিয়ে অন্য কেউ যায়গা করে নিতে পারবে? প্রশ্নের উত্তর পেতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার পড়ে না। চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায়, এই মুহূর্তে এটা অসম্ভব। এই কথা জাতীয় দলের বাইরে থাকা আল-আমিন এবং রবিউল ইসলামও ভালো করে জানেন। তবুও আশা ছাড়ছেন না তারা। অসম্ভবকে সম্ভব করার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন


মাশরাফির নেতৃত্বে বাকী তিন পেসারকে হঠানো কতটা কঠিন তা পরিসংখ্যানই বলে দিবে। যে বাংলাদেশ এক সময় স্পিনের ওপর ভরসা করত, সেই বাংলাদেশ এখন পুরোপুরি পেস নির্ভর দল। পেসাররা এই বছর স্পিনারদের চেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন। ১৫ ম্যাচে মাশরাফিদের ঝুলিতে গেছে ৬৭টি উইকেট। অন্যদিকে স্পিনাররা নিতে পেরেছেন ৪১টি!


তাসকিন কয়েকটি ম্যাচ ইনজুরির কারণে মাঠে নামতে না পারলেও, যে আগুন ঝরিয়েছেন তা দেখার মতো। রুবেল হোসেন এই বছরে নিয়েছেন মোট ১৮টি উইকেট। এটাই তার ক্যারিয়ার সেরা বছর। মাশরাফি আছেন ঠিক তার পরে, ১৭টি। অন্যদিকে মুস্তাফিজ কয়েকমাস দলে ঢুকেই বিশ্ব ক্রিকেটের তারকা বনে গেছেন। ছয়টি ওডিআই খেলেই রুবেলের সম পরিমাণ উইকেট নিয়েছেনকাটার মাস্টার অন্যদিকে মোহাম্মদ শহীদ টেস্টে নিজেকে নিয়মিত বানিয়ে ফেলেছেন। উইকেট শিকারের দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষের রান আটকাতে তার জুড়ি মেলা ভার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে টানা ছয়টি মেডেন নিয়ে নজির সৃষ্টি করেছেন এই পেসার। বাংলাদেশ দলের এই মুহূর্তে যা অবস্থা, তাতে চারজনকেই সামনের ওয়ানডেগুলোতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করা হবে। কেউ ইনজুরিতে পড়লেও নতুন কোনো পেসারের দলে ঢোকা অনিশ্চিত। কেননা সেক্ষেত্রে বাকী তিনজনকে দিয়ে কাজ চালানো হবে


আল-আমিন, রবিউলের জন্য টেস্টের একটা সম্ভাবনা থাকলেও, তা নিয়ে স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না দুই পেসার। শোনা যাচ্ছে, তাসকিনকে যে কোনো সময় খেলানো হতে পারে। ওদিকে আবার শাহাদাত হোসেন রাজীবের নাকি সুবুদ্ধির উদয় হয়েছে। কঠোর পরিশ্রম করছেন দলে ফিরতে


অন্যদের এখন ছুটি থাকলেও আল-আমিন, রবিউল, শাহাদাত নিয়ম করে অনুশীলন করছেন। মিরপুরের ইনডোরে উঁকি মারলেই, তাদের চোখে পড়ে


বাংলাদেশের এই পেস আক্রমণ আরো বেশ কয়েক বছর প্রভাব ধরে রাখবে বলেই মনে হয়। কারো বড় কোনো বিপদ না ঘটলে, যে চার জন (তাসকিন, রুবেল, মাশরাফি, মুস্তাফিজ) এখন ওয়ানডের নেতৃত্বে আছেন তারাই থাকবেন। বিষয়টি নতুনদের জন্য প্রেরণার হলেও আল-আমিন, রবিউলের জন্যকঠিন বাস্তব জাতীয় দলে ঢুকতে লড়াই করার মানসিকতা তারা কত দিন ধরে রাখতে পারবেন, সেটাই দেখার বিষয়।অপেক্ষাতাদের আকাঙ্ক্ষার ওপর মরচে না ফেলে!

আশার কথা হল দুজনের বয়স বেশি নয়। আল-আমিনের ২৫, রবিউলের ২৮। মাশরাফি কয়েক বছর বাদে অবসর নিয়ে নিবেন। তাসকিন, রুবেল, মুস্তাফিজদের দিন সব সময় একরকম যাবে না। সেই দিনগুলোতে আওয়াজ তুলতে হলে রবিউলদের তৈরি থাকতে হবে প্রতিদিন। অপেক্ষা আর ধৈর্যের কাছে নিজেদের হারিয়ে ফেললে চলবে না। কাজটা কিন্তু সহজ নয়। কঠিন


কঠিনেরেকতটুকু ভালবাসতে পারবেন তরা?

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top