ভারতীয় সরকার কিছুদিন আগে ৮৫৭টি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিতে নির্দেশ দেয়। তবে এগুলোর মধ্যে মাত্র আটটি ওয়েবসাইট ছিল ডার্কনেটের অংশ।
যৌনতা, প্রাণী হত্যার দৃশ্য প্রচার, মারাত্মক অস্ত্র বিক্রি কন্ট্রাক্টে ধর্ষণ ও খুন ইত্যাদি সার্ভিস পাওয়া যায় ডার্কনেটে। কিন্তু আপনি গুগল ও বিং-এর মতো সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করেন, তাহলে ডার্কনেটের সন্ধান পাবেন না। আর এ কারণেই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ডার্কনেটের অধিকাংশের খোঁজ পান না।
ডার্কনেটের বিষয়টি সবার উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায় ২০১৩ সালে। সে সময় সিল্ক রোড নামে অন্ধকার জগতের একটি বড় ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয় মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এফবিআই। সে ওয়েবসাইটটিতে বিক্রি করা হতো নিষিদ্ধ ওষুধসহ নানা নিষিদ্ধ সামগ্রী। এটি বিটকয়েন নামে এক ধরনের ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবহার করে। ফলে অনলাইনে লেনদেনেও কোনো সমস্যা হতো না।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের কম্পিউটার সায়েন্স গবেষক গ্যারেথ উয়েনস জানান, ডার্কনেটের ৮০ ভাগ ট্রাফিক আসে শিশুদের ব্যবহার করে নির্মিত পর্নোগ্রাফিতে। এ ছাড়া রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ড্রাগ বিক্রি।
গ্যারেথ উয়েনস আরো বলেন, 'এ গবেষণার আগে আমার ধারণা ছিল ডার্কনেট একটি ভালো বিষয়।'
ডার্কনেটে শুধু পর্নোগ্রাফি, ড্রাগ কিংবা অস্ত্রই বিক্রি হয় না। এখানে খুনিও ভাড়া পাওয়া যায়। ইউরোপ কিংবা আমেরিকা, যেখানেই শিকার থাকুক না কেন, অর্থের বিনিময়ে খুব সহজেই খুন করিয়ে দেওয়া যায় ডার্কনেটের খুনিদের সহায়তায়।
তিনজনের একটি খুনি গ্রুপের অফারে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যেকোনো স্থানে কোনো ব্যক্তিকে খুন করতে তারা ১০ হাজার ডলার বা সমপরিমাণ বিটকয়েন এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কোনো স্থানে খুন করতে ১২ হাজার ডলার চার্জ করে। তবে তারা ১৬ বছরের নিচের শিশু এবং শীর্ষ ১০ রাজনীতিবিদকে খুন করে না। এ ধরনের অসংখ্য খুনি গ্রুপ ছড়িয়ে রয়েছে ডার্কনেটের অনলাইনে।

