প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিনিয়োগ বাড়াতে তার সরকার বেশ কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে এবং বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে নানা ধরনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর এনইসি কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত স্লোভেনিয়ার অনাবাসী রাষ্ট্রদূত ডারজা বাভদাজ কুরেট বিদায়ী সাক্ষাত্ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও স্লোভেনিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে অব্যবহূত সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও চেম্বার প্রতিনিধি বিনিময়ের মতো ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। উভয় দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, দু দেশের স্বার্থে বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা স্থাপন করা প্রয়োজন। তিনি দু দেশের সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের বিভিন্ন পণ্য আমদানি করতে স্লোভেনিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বমানের সিরামিক, তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যসামগ্রী প্রস্তুত করছে। স্লোভেনিয়ার ব্যবসায়ীরা এসব পণ্য আমদানি করতে পারে। বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক খাতে সরকারের ব্যাপক সাফল্যের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপের ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। দেশের অধিকতর উন্নয়নে বেসরকারি খাতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে সম্প্রতি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৈঠকের শুরুতে তিনি তদানীন্তন যুগোস্লাভিয়ার অবিভক্ত অংশ হিসেবে স্লোভেনিয়ার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দেয়ার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
স্লোভেনিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, দু দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে তিনি ইতোমধ্যে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন । রাষ্ট্রদূত দু দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দল বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে ক্রীড়া খাতে সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণে বাংলাদেশে দক্ষ ফুটবল কোচ পাঠানোর প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম ও প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

