সেবা ডেস্ক: জাগৃতির প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যার প্রতিবাদে আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট। ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সভাপতি লাকি আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক জিএম জিলানী শুভ। ছাত্র ফ্রন্টের মিছিলে নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সভাপতি জনার্দন দত্ত নান্টু। প্রকাশক দিপন হত্যার বিচার চেয়ে ছাত্র ইউনিয়নের মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার আজকে শুধু প্রগতিশীল মানুষদেরকেই নয় একটি শিশুর স্বাভাবিক জন্মও নিশ্চিত করতে পারছে না। মায়ের পেটে লাথি মেরে শিশু হত্যার মত পর্যায়ে আজকে সাম্প্রদায়িকতাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একের পর এক মৌলবাদী জঙ্গি সন্ত্রাসী হামলার পরেও সরকার বলছে যে দেশে কোনো জঙ্গি নেই। অব্যাহতভাবে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদবিরোধী ব্লগার, লেখকদের এবং সব শেষে প্রকাশককে পর্যন্ত হত্যা করা হয়েছে মধ্যযুগীয় পাশবিক কায়দায়। ছাত্র নেতারা বলেন, যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা জনগণের স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চয়তা দিতে পারে না সে রাষ্ট্র ভেঙ্গে ফেলা উচিত। বক্তারা এই সকল প্রগতিশীল লেখক প্রকাশকদেরকে হত্যার পিছনে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সরকারের ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করেন। তারা তীব্র কণ্ঠে, সকল ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিয়ে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকী আক্তার বলেন, জঙ্গি সংগঠনগুলো নিজেদেরকে স্বঘোষিত খুনি বলে দাবি করছে, তারপরেও সরকারের তাবড়-তাবড় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসআই, ডিজিএফআই, র্যাব, পুলিশ নির্বিকার। অথচ যখন ন্যায্য দাবিতে ছাত্র জনতার ক্ষুদ্রতম অংশ আন্দোলনে নামে, তখন প্রতি দশজন আন্দোলন কর্মীর পেছনে একজন গোয়েন্দা নিয়োগ দিতে সরকার দ্বিধা করেন না। সরকারের নির্লিপ্ততা এবং জঙ্গিবাদ দমনে ব্যর্থ প্রশাসনই প্রকৃত অর্থে সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ দেশে মৌলবাদীদের সাহস বৃদ্ধি করছে। প্রথমে লেখক তারপর প্রকাশক এরপর হয়তো বিজ্ঞানমনোস্ক বই পড়ার জন্যও খুন হতে হবে।
প্রকাশক দীপনের হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল
নভেম্বর ০১, ২০১৫
ট্যাগস
