দেশীয় জঙ্গিরাই হামলার পর বিভিন্ন নাম ব্যবহার করছে

S M Ashraful Azom
0
*দেশে আইএস বলে কিছু নেই
 
*নেপথ্যে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী দুটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা
 
দেশে গত কয়েক মাস ধরে একটার পর একটা হামলা হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। একজন প্রভাবশালী গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, শুধুমাত্র ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক ও রংপুরে জাপানি নাগরিক হত্যা ছাড়া অন্য হত্যাকাণ্ডগুলো এক সূত্রে গাঁথা। আর এই হামলার নেপথ্যে দেশীয় জঙ্গিরা। এরাই বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন নাম ধারণ করে হামলাগুলো ঘটাচ্ছে। এদের সঙ্গে মধ্যপাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কোন ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। দৃষ্টি ঘোরাতে তারা আইএসের নাম ব্যবহার করছে। নেপথ্যে কাজ করছে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী দুটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা।
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান খান কামাল ইত্তেফাককে বলেন, আসলে এই হামলাগুলোর পেছনে জামায়াত-শিবির চক্র। জামায়াত-শিবির যে কায়দায় হামলা করে এরাও একই কায়দায় হামলা করছে। বগুড়ার শেরপুরে শিয়া মসজিদে ঢুকে গুলি করার ঘটনায় আমরা চারজন গ্রেফতার করেছি। শিগগিরই এই হামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন হবে। তিনি বলেন, আইএসের ধোয়া তুলে বিদেশিদের দেখাতে চায় এই জামায়াত-শিবির। আমাদের দেশে আইএস বলে কিছু নেই। বিদেশি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যতটুকু যোগাযোগ তা জামায়াতের।
 
একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, হোসেনী দালানে শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে গ্রেনেড হামলা, ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার, ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যা, আশুলিয়া ও সাভারে পুলিশের চেকপোস্টে হামলা চালিয়ে দু’জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা, গোপীবাগের সিক্স মার্ডার, বাড্ডায় প্রকৌশলী খিজির খান হত্যা, ঈশ্বরদীতে যাজক লুক সরকারকে হত্যার চেষ্টাসহ বেশ কয়েকটি ঘটনার রহস্য আমরা উদ্ঘাটন করে ফেলেছি। সেখানে দেখা গেছে, দেশীয় জঙ্গিরাই কখনও বলছে জেএমবির কথা, কখনও আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, কখনও হিজবুতের নাম ব্যবহার করছে। আবার আইএস বা আল-কায়েদার নামও ব্যবহার করছে। আসলে ওদের কোন বিদেশি কানেকশন নেই।
 
ওই কর্মকর্তা বলেন, তবে বিদেশি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে জামায়াতের একটা কানেকশন আছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিরোধিতাকারী দু’টি বিদেশি গোয়েন্দা জামায়াতকে মদদ দিচ্ছে। তাদের কাছ থেকেই ফান্ড পাচ্ছে জামায়াত। সর্বশেষ হোসেনী দালানে হামলার প্রধান সমন্বয়কারী মাহফুজ ওরফে শাহাদাত ওরফে আলবানী গত বুধবার গভীর রাতে রাজধানীর গাবতলী এলাকায় ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির একটি অংশ ওই হামলা চালায়। নিহত আলবানী জেএমবির ওই অংশটির সামরিক প্রধান। পুলিশের দাবি- জামায়াত-শিবির থেকে আসা একদল নতুন সদস্য জেএমবির ওই অংশটিকে অর্থ জোগান দিচ্ছে। ওই অংশটিই গত ৪ নভেম্বর আশুলিয়ায় একটি তল্লাশিচৌকিতে এক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করে। এরাই গত এপ্রিল মাসে আশুলিয়ার কমার্স ব্যাংকের শাখায় ডাকাতির চেষ্টা চালিয়ে সাতজনকে হত্যা করেছিল এবং রংপুরে কুপিয়ে মাজারের খাদেমকে হত্যা করেছে।
 
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশীদ ইত্তেফাককে বলেন, জেএমবির নেটওয়ার্কের সঙ্গে বিদেশি সন্ত্রাসীদের কোন যোগাযোগ নেই। দেশে আইএসও নেই। জামায়াতের সঙ্গে বিদেশি সংস্থার কিছু যোগাযোগ আছে। আসলে জামায়াতই এদের বিভিন্ন নামে ব্যবহার করছে। হামলাকারী ও জামায়াতের আদর্শ একই। যখন রাজনৈতিকভাবে জামায়াত বেকায়দায় পড়ে তখন এই ধরনের ঘটনা ঘটায়। আইএসের নাম ব্যবহার করে ধামাচাপা দিতে চায়। বিদেশি অর্থ আসে জামায়াতের কানেকশনেই। তিনি বলেন, অল্প ক’জন শিয়া সদস্য রাজনীতিতে কোন প্রভাব ফেলে না। আসলে ওদের টার্গেট করা হয়েছে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য।
 
মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশীদ বলেন, রাজনৈতিকভাবে যখন জামায়াত হারিয়ে যাচ্ছে, তখনই এই হামলাগুলো হচ্ছে। পাশাপাশি জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা যুদ্ধাপরাধীদের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার কারণে  ফাঁসির রশিতে ঝুলতে হচ্ছে। এক ধরনের রাজনৈতিক মৃত্যু হতে চলেছে জামায়াতের। ফলে তারা মরণকামড় দিচ্ছে। 
 
পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক ইত্তেফাককে বলেন, এখন পর্যন্ত যতগুলো হামলা হয়েছে, তার শেকড় এক জায়গায়। আর সেটা হল জামায়াত-শিবির। আমরা অনেকগুলো ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে ফেলেছি। জামায়াত-শিবির থেকে কিছু সদস্য জঙ্গি দলে সরাসরি যোগ দিয়েছে। এরাই এখন সরাসরি অপারেশনে যাচ্ছে। আর নাম বলছে আইএস বা বিদেশি জঙ্গিদের। আসলে এসব ঘটনার সঙ্গে বিদেশি জঙ্গিদের কোন সম্পৃক্ততা নেই।
ট্যাগস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top