নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিদেশি কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য চাইতে শুরু করেছে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা, পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা, বেতন ও অন্যান্য সুবিধা, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সময়, বিনিয়োগ বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন রয়েছে কি না- এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে।
এনবিআরের নির্দেশনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর অফিস ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিঠি পাঠানো শুরু করেছে। কর কর্মকর্তারা সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনও শুরু করেছেন। সেই সঙ্গে অনুমোদন দানকারী প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ বোর্ড, বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরো’র কাছ থেকেও হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, বিদেশিদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কাজ চলছে। তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিনিয়োগ বোর্ড, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলসহ (ইপিজেড) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করবেন। তিনি বলেন, বিদেশিরা তাদের প্রাপ্য বেতনের ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সঠিক রাজস্ব আদায় ও প্রকৃত বিদেশি কর্মীর তথ্য জানা প্রয়োজন।
গত বাজেটে অবৈধ কিংবা তথ্য গোপনকারী বিদেশি নাগরিক ও তাদের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে বলা হয়, কোন কোম্পানি অবৈধ কিংবা ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া বিদেশি নিয়োগ দিলে ওই কোম্পানির প্রদেয় আয়করের ৫০ শতাংশ বা কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা জরিমানা হবে। ওই কোম্পানির কর অব্যাহতিসহ অন্যান্য কর সংক্রান্ত সুবিধা বাতিলের পাশাপাশি জেল-জরিমানার কথাও বলা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল কারখানা, বায়িং হাউজ, এনজিও, বহুজাতিক কোম্পানি, তথ্য-প্রযুক্তি কোম্পানি, অবকাঠামো নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠাকে কয়েক লাখ বিদেশি কাজ করেন। অথচ তাদের প্রকৃত সংখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। তাদের বেতনের প্রকৃত অংকও গোপন করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অথচ বিনিয়োগ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে ১২ হাজার বিদেশি বিনিয়োগ বোর্ড থেকে ওয়ার্ক পারমিট নেয়। এর বাইরে বেপজা ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরো’র কাছেও কয়েক হাজার বিদেশি কর্মীর নিবন্ধন রয়েছে। বিদেশি কর্মীদের বেশিরভাগই প্রতিবেশী ভারতের। এর বাইরে শ্রীলঙ্কা, চীন, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, পাকিস্তান ছাড়াও আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকার নাগরিকরা বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে কাজ করেন।
বর্তমানে বিদেশি নাগারিকদের বাংলাদেশে আয়ের উপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। এনবিআরের একজন ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সার্বিক তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে। মূলত অবৈধ বিদেশি চিহ্নিত করা এবং তাদের কাছ থেকে প্রযোজ্য হারে কর আদায় করাই এর উদ্দেশ্য। প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্য যাচাই করার জন্য প্রয়োজনবোধে কর্মকর্তারা তাদের অফিস পরিদর্শন করবেন। কোন ধরণের অসঙ্গতি পাওয়া গেলে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
জানা গেছে, বর্তমানে যে সব বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে কাজ করছেন মূলত প্রতিষ্ঠানের উচ্চ ও মধ্যম পর্যায়ে কাজ করেন। অভিযোগ রয়েছে, বৈধভাবে কাজ করা বিদেশিরা কর ফাইলে তাদের প্রকৃত আয়ের এক চতুর্থাংশ কিংবা তারও কম প্রদর্শন করে কর ফাঁকি দেন। অন্যদিকে ওয়ার্ক পারমিট বিহীন বিদেশিরা কোন করই দেন না। বিদেশি এসব কর্মীরা মূলত নিয়োগদানকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এভাবে কর ফাঁকি দিচ্ছে। এ জন্য এবারের বাজেটে নিয়োগকর্তাকে বড় শাস্তির আওতায় আনার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

