সেবা ডেস্ক: বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনে শুঁটকি আহরণ মৌসুম শুরুর তিন সপ্তাহ পর জেলেদের বনহীন চরে অস্থায়ী শুঁটকি পল্লী নির্মাণে অনুমতি দিয়েছে বন বিভাগ। বুধবার রাতে সুন্দরবন বিভাগের এই অনুমতিপত্র হাতে পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে বাগেরহাটের মংলা ও শরণখোলা থেকে সাত হাজারের অধিক জেলে কোস্টগার্ড ও বনরক্ষীদের পাহারায় রওনা দিয়েছেন সুন্দরবন উপকূলে। এর মধ্য দিয়ে অক্টোবরে শুঁটকি আহরণ মৌসুমের শুরুতে সুন্দরবনের চরে শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অস্থায়ী পল্লী নির্মাণ করতে এসে নৌকায় ভাসতে থাকা হাজার হাজার জেলের অবর্ণনীয় দুর্দশার অবসান ঘটেছে। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে সুন্দরবন সুরক্ষায় বনের সব ধরনের সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে বন মন্ত্রণালয়। এরই প্রেক্ষাপটে অক্টোবরের শুরুতে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চরে শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অস্থায়ী জেলে পল্লী নির্মাণ আটকে যায়। হঠাৎ করেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত আসায় উপকূল ও সুন্দরবন সন্নিহিত মংলা-শরণখোলার নদীতে এক মাস ধরে আটকে থাকতে হয় হাজার হাজার জেলেকে। অবশেষে নৌকায় ভাসতে থাকা হাজার হাজার হতদরিদ্র এসব জেলের অবর্ণনীয় দুর্দশা লাঘবে এগিয়ে আসে বন বিভাগ। বুধবার বিকেলে সাতটি শর্তসাপেক্ষে জেলেদের অনুমতি দিতে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগকে নির্দেশ দেন প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. ইউনুস আলী। তবে, এর আগে সুন্দরবনের ১৪টি চরে অস্থায়ী শুঁটকি পল্লী নির্মাণ করে জেলেরা মাছ আহরণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ করলেও এবার চরের সংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে মাত্র পাঁচটি। এগুলো হল- দুবলার মেহেরআলীর চর, আলোরকোল, মাঝের কিল্লা, নারকেলবাড়িয়া ও শ্যালারচর। এ মৌসুমে ৫০০টি অস্থায়ী ঘর নির্মাণসহ ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ অনুমতি পেয়েছে জেলে-বহরদাররা। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, এবার জেলে-বহরদাররা নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব দিয়ে একমাত্র জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া সুন্দরবনের অন্য কোন বনজ সম্পদ ব্যবহার করতে পারবে না। তারা সুন্দরবনের নদ-নদী ও খালের মাছ আহরণ করতে পারবে না। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস বা বন্যপ্রাণী শিকার করতে পারবে না। ঢুকতে পারবে না বনঅভ্যন্তরে। শুধু উপকূল ও সমুদ্রে মাছ ধরে চাতালে শুকাবে। নিয়ন্ত্রিতভাবে পশুর ও বলেশ্বর নদী দিয়ে শুঁটকি মাছ পরিবহন করা যাবে। এসব শর্তে বুধবার রাতে জেলে-বহরদারদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, সুন্দরবন রক্ষায় চলতি শুঁটকি আহরণ মৌসুমে বনে টহল জোরদার করা হয়েছে। বনদস্যুদের কবল থেকে হতদরিদ্র এসব জেলেকে বাঁচাতে বনরক্ষীদের পাশাপাশি র্যাব ও কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল জোরদার করতে সুন্দরবন বিভাগ তাদের সহযোগিতা চেয়েছে।
