
করোনা পরিস্থিতিতে ব্যাপক ঝুকিতে যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে খাদ্য সংকট । দীর্ঘ সময় ধরে অলস সময় পার করছে এ জনপদের কর্মজীবী মানুষ গুলো বর্তমান সরকারের চলমান উন্নয়নের ধারায় এ এলাকায় উন্নয়নের ছোয়া লাগলেও ছোয়া লাগেনি শ্রমজীবীদের জীবনে আজ এ জেলা গড়ে ওঠেনি বড় কোন কর্মস্থান বা প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি উদ্যোগক্ততা আনা গোনা নেই বললেই চলে । কৃষক বা কৃষি জীবী পরিবার গুলো যেমন বিশাল অংশ তেমনি অন্যান্য শ্রমজীবীর সংখ্যাও কর্ম নয়। সর্বপরি বলা যায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ শ্রমজীবী। যারা বেশীরভাগ দরিদ্রসীমার জীবন যাপন করে। যাদের থাকে না গচ্ছিত কোন সম্পদ তারা রয়েছে বিপাকে আর সুযোগ সন্ধানী এবার ফ্রি পাবো সারাদিন রয়েছে সুযোগে। এছাড়াও দুংখ কষ্টের মধ্যেও এলাকার মানুষ উৎসুক সর্বদা করোনা ভাইরাসে। পুলিশ সেনাবাহিনী কখন আসলো আর কখন গেলো কতজন আসলো,কতজন আক্রান্ত হলো কোন বাড়ী বা কোন গ্রাম আক্রান্ত হলো লকডাউনে পড়লো এমন উড়ো খবরের আলাপে। আর কে কাকে টপকিয়ে কার আগে সহায়তা নিয়ে নিজে আগে বাচা যায় সেই ধান্দায় কেউ বলে না আমাকে নয় অসহায় কে দেন সবাই বলে আমিও অসহায়। আর সরকারি বরাদ্দ সে তো হাতির মুখে দুবলা ঘাস অবস্থা । চাহিদার চেয়ে বরাদ্দ অপ্রতুল তাই তো আজ খাদ্য সহায়তার জন্য বিক্ষোভ ,মানববন্ধন, নানা অভিযোগ। জেলা প্রশাসনের হিসাব মতে এ যাবৎকালে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে ৮৯ হাজার ৯৭০ পরিবার কে। আর একবার নগত অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে ৭৮ হাজার ৩৪০ পরিবার কে যে অর্থে পরিমান ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। যা প্রতিটি পরিবারের জন্য পরে ৫৫ টাকা ৩৪ পয়সা।
অন্যদিকে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা ,টিসিবির পন্য বিক্রি সরকারের অন্যান্য সুবিধাদি প্রেরণের সময় আমরা জনসমবিত হচ্ছি একটু সহায়তা পেতে আর বিপদ কে আদর করে ডেকে নিয়ে যাচ্ছি আপন গৃহে। নিজ নিজ জনসচেতনতা নেই বললেই চলে । যে যার মতো চলছে। চায়ের দোকান গুলো এখন বাড়ী মধ্যে নিয়ে গেলো। শহরের মানুষ একটু সচেতন থাকলেও গ্রামের মানুষ গুলো বুঝছেই না করোনা কি । এ হতে উত্তরণের উপায় কি। সংক্রমন রোধের চেয়ে সংক্রমন বৃদ্ধি ঘটাতে আগ্রহী তারা আচারণে । প্রতিটি মানুষ তারা খাই কি নিয়ে চিন্তিত রক্ষা পাই কেমনে সেটা ভাবার সময় নাই এই অবস্থা। এছাড়া এই সংকটময় সময়ে জেলা জুড়ে চলা সরকারি বা বেসরকারি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম গুলোতে ব্যাপক জনসমাগম ঘটছে যেখানে সামাজিক দুরত্ব শত চেষ্টা করলেও ধরে রাখা সম্ভব হয় না হচ্ছে না।
সরকারের নির্দেশে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ ,সেনাবাহিনী ,জনপ্রতিনিধি,সরকারি অন্যান্য কর্মকর্তা ,উপজেলা প্রশাসন,থানা পুলিশ,চলমান ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্টেটগণ নিজেদের জীবনের উপর চরম ঝুকি নিয়ে আজ দেশের জন্য আমাদের এই জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তারাও তো মানুষ তাদের তো রোগ বালাই আসতে পারে হতে পারে। একবার ভাবুন তো এই সরকারি কর্মকর্তারা ,দেশের ডাক্তার ,পুলিশ ,প্রশাসন অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের যদি কোয়ারেন্টাইনে রাখা প্রয়োজন হয় ২ সপ্তাহের জন্য ভাবুন তো আপনার আমার কি অবস্থা দাড়াবে। তাই বিপদ হতে নিজেদের মুক্ত রাখতে নিজেদের একেক জনকে সচেতন যোদ্ধার মতো সচেতন নাগরিক হতে হবে । মনে রাখতে হবে আপনাদের সেবায় যারা কাজ করছে তাদের একেক জনের একেকটি পরিবার আছে।
উল্লেখ্য,করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বে মানুষ এখন আপনজনের পাশে থাকতে আগ্রহী । তারা ফিরছে নারী টানে বিদেশ ফেরত ও ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ সহ বড় বড় শহর থেকে আগত মানুষের নৌপথ সহ বিভিন্নভাবে গাইবান্ধায় ফিরেছে বর্তমানে গাইবান্ধায় এদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন ৫৬ জন সহ মোট ২ হাজার ৯০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এর আগে গত ১০ এপ্রিল গাইবান্ধা জেলা কে লক ডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা যায়,গাইবান্ধায় গত ২৪ ঘন্টায় আজ শুক্রবার করোনা ভাইরাস সন্দেহে হোম কোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসাধীন রোগী ৫৬ জন বেড়ে এখন মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯০ জন। এছাড়া একজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সুস্থ্য হওয়ার পর পূর্ণরায় আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে একজন ট্রাফিক সাজেন্ট সহ জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ জন, গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের আইসোলেসনে দীর্ঘদিন অবস্থান করার পর সুস্থ হওয়ায় ৪ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছিলো এদের মধ্যে একজন আবারো আক্রান্ত হওয়ায় তাকে আইসলিসনে রাখা হয়েছে। এছাড়া জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর হাসপাতালে আইসলিসনে এখন রয়েছে ১২ জন। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ৩৬ জন । এ পর্যন্ত আক্রান্ত সন্দেহে স্যাম্পল কালেকশন করা হয় মোট ৩২১ টি । পরীক্ষার পর ফলাফল পাওয়া যায় ২৫৩ টির। আরো জানা যায়,গাইবান্ধা জেলায় এ পর্যন্ত জি আর চাল বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে ৯৮৩.০০ মেট্রিক টন,মজুদ রয়েছে ২১২ মেট্রিক টন। জি আর ক্যাশ বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে ৪৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, মজুদ রয়েছে ১২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। শিশু খাদ্যের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১০ লাখ টাকা তার মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ৮ লাখ টাকা,মজুদ আছে ২ লাখ।
