রগরগে ভ্যাম্প থেকে বাহুবলের রাজমাতা শিবগামী

S M Ashraful Azom
রগরগে ভ্যাম্প থেকে বাহুবলের রাজমাতা শিবগামী
রগরগে ভ্যাম্প থেকে বাহুবলের রাজমাতা শিবগামী

সেবা ডেস্ক: দক্ষিণে’র জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী’কে আলাদা করে পরিচয় করে দেও’য়ার কিছু নেই। তাঁর আসল নামটা দর্শক’দের মুখে মুখে শোনা না গেলেও তাঁকে এক নামে চেনে সবা’ই। তিনি হলেন ‘রাজমাতা শিবগামী দেবী’। এই চরিত্র’টা করেই তিনি ভারত ও ভার’তের বাইরে ক্যারিয়া’রের সেরা স্বীকৃতি পেয়েছেন।

তিনি হলেন রাম্যা কৃষ্ণান। দক্ষিণের জনপ্রিয় এই মুখ বলিউডে কখনোই নায়িকা হিসেবে খুব বেশি স্বীকৃতি পাননি। তিনি ১৯৯৩ সালের বড় দু’টি প্রোজেক্ট ‘খলনায়ক’ ও ‘পরম্পরা’য় ছিলেন। ‘খলনায়ক’ ‍সুভাষ ঘাইয়ের ছবি, আর ‘পরম্পরা’ ছিল যশ রাজের প্রোডাকশন।
অনিল কাপুরের সাথে এমন ঘনিষ্ট দৃশ্যও করেছেন।
অনিল কাপুরের সাথে এমন ঘনিষ্ট দৃশ্যও করেছেন।
এরপর রাম্যা মহেশ ভাটের প্রিয় পাত্র বনে যান। ১৯৯৫ সালে করেন ‘ক্রিমিনাল’ আর ১৯৯৬ সালে আসে ‘চাহাত’। চাহাতে আরো ছিলেন শাহরুখ খান ও পুুজা ভাট। শাহরুখ খানের সাথে রাম্যার গানগুলো আলোচিত ছিল। সেই বছরের চতুর্থ সেরা ব্যবসাসফল ছবি ছিল ‘চাহাত’।

১৯৯৮ সালে করেছেন ‘বাড়ে মিয়া ছোটে মিয়া’। সেখানে অমিতাভ বচ্চকন ও গোবিন্দ’র সাথে ছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে। এরপর হিন্দি ছবিতে আর দেখা যায়নি।
‘চাহাত’ ছবির মহরতে শাহরুখ ও পুজার সাথে।
 ‘চাহাত’ ছবির মহরতে শাহরুখ ও পুজার সাথে।
সব মিলিয়ে বলিউডে তিনি খুব বেশি দীর্ঘস্থায়ী না হলেও তামিল, তেলেগু, কান্নাড়া ও মালায়লায় ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেন। ক্যারিয়ারে তিনি ২০০ টিরও বেশি ছবি করেছেন। একাধারে তিনি একজন পেশাদার নৃত্যশিল্পী। কুঁচিপুড়ি, ভরতনট্যম ও পাশ্চাত্য নাচে তালিম নিয়েছেন তিনি। মঞ্চেও নেচেছেন।

১৯৭০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর চেন্নাইয়ে জন্ম হয় রাম্যার। তিনি খ্যাতনামা তামিল কমেডিয়ান চো রামাস্বামীর ভাতিজি। ১৯৮৪ সালে তামিল ইন্ড্রাস্টি থেকে অভিষেক হয় রাম্যার। ছবির নাম ‘ভেল্লাই মানাসু। বয়স তখন মাত্র ১৪।  যদিও, এর এক বছর আগেই তিনি মালায়ালাম ছবি ‘নিরাম পুলারুমবোল’-এ কাজ করেছিলেন। কিন্তু, ছবিটা মুক্তি পেয়েছিল পরে।
‘চাহাত’ ছবির মহরতে শাহরুখ ও পুজার সাথে।
রগরগে ভ্যাম্প থেকে বাহুবলের রাজমাতা শিবগামী

রাম্যার মুকুটের সবচেয়ে আলোচিত পালকটি এসেছে ‘বাহুবলি’ ছবির সুবাদে। যদিও, দুই কিস্তিতে নির্মিত ভারতের ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম ব্যবসাসফল এই ছবিতে কাজ করার জন্য তিনি কখনোই প্রথম পছন্দ ছিলেন না। পরিচালক রাজামৌলি চরিত্রটির জন্য প্রস্তাব করেছিলেন প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীকে। কিন্তু, ব্যাটে-বলে না হওয়ায় চরিত্রটি পান রাম্যা।

বাকিটা তো ইতিহাস। ‘বাহুবলি: দ্য বিগিনিং’ ও ‘বাহুবলি: দ্য কনক্লুশন’ – দুটোর জন্যই তিনি দক্ষিণী ফিল্ম ফেয়ারে সেরা সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কার জয় করেন। ফিল্মফেয়ারে তাঁর অভিষেক অবশ্য হয় ২০০০ সালেই। ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া রজনীকান্তের তামিল ছবি ‘পাদাপ্পায়া’র জন্য রাম্যা পেয়েছিলেন সেরা অভিনেত্রীর ফিল্মফেয়ার।
রাজমাতা শিবগামী দেবী
 রাজমাতা শিবগামী দেবী
রাম্যা ডাবিংয়ের কাজও করেছেন। ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া তেলেগু ছবি ‘খাদগাম’-এ তিনি বলিউড অভিনেত্রী সোনালী বেন্দ্রের কণ্ঠ দিয়েছিলেন। করবেন নাই বা কেন, ছবিটির পরিচালক ছিলেন তারই স্বামী কৃষ্ণা ভামসি। এক সন্তানের জনক-জননী বিয়ে করেন ২০০৩ সালের ১২ জুন।
রাজমাতা শিবগামী দেবী
রগরগে ভ্যাম্প থেকে বাহুবলের রাজমাতা শিবগামী

রাম্যা খুবই আন্ডাররেটেড হলেও খুবই সব্যসাচী একজন অভিনেত্রী। তিনি ক্যারিয়ারে গ্ল্যামারাস চরিত্র যেমন করেছেন, তেমনি যত্নশীল মা, স্নেহময়-ধার্মিক মায়ের চরিত্র করেছেন। কিংবা কোনো বদরাগী ভ্যাম্প, ন্যায়বান কিন্তু কঠোর রানী এমনকি দেবীর চরিত্রও করেছেন স্বাচ্ছন্দ্যে। যেকোনো চরিত্রকেই নিজের মাঝে ধারণ করতে পারেন তিনি। এখানেই তাঁর সাফল্য।


-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন


#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top